ইলন মাস্কের স্টারশিপ, সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থ বেশি, কেন বারবার ধ্বংস হচ্ছে এই রকেট?

ইলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স এর উচ্চাভিলাষী স্টারশিপ রকেট বারবার ব্যর্থতার মুখে পড়ছে। ২০১৯ সালে ইলন মাস্ক প্রথম স্টারশিপের প্রযুক্তির কথা প্রকাশ করেন। এটি একটি দুই-স্তর বিশিষ্ট রকেট, যা ভবিষ্যতে একসঙ্গে ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে মহাকাশযাত্রায় পাঠানোর ক্ষমতা রাখে। সম্পূর্ণভাবে পুনঃব্যবহারযোগ্য এই রকেটটি মহাকাশযাত্রায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে মনে করা হয়। তবে এই বিশাল এবং জটিল প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে স্পেসএক্সকে একের পর এক ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্পেসএক্স মোট ১০টি পরীক্ষামূলক স্টারশিপ উৎক্ষেপণ করেছে, যার মধ্যে ৬টি মিশনই ‘ভয়াবহভাবে ধ্বংস’ হয়েছে। প্রথম ফ্লাইটটি উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায়, কারণ বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন চালু হয়নি এবং রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় ফ্লাইটটি ধাপে ধাপে সফলভাবে আলাদা হলেও, যানের পিছনের অংশে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ধ্বংস হয়। ২০২৪ সালের শুরুতে তৃতীয় ফ্লাইটটি সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছালেও, নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘূর্ণনের কারণে পুনরায় প্রবেশের সময় ধ্বংস হয়ে যায়।

স্পেসএক্সের দর্শন হলো ‘দ্রুত ব্যর্থ হও, দ্রুত শেখো’। প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা পরবর্তী রকেটকে আরও উন্নত করে তোলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইট টেস্ট ৭ এবং মার্চে ফ্লাইট টেস্ট ৮-এও ইঞ্জিনের কাছাকাছি জ্বালানি লিকেজ এবং বিস্ফোরণের কারণে স্টারশিপ ধ্বংস হয়। সর্বশেষ, ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লাইট টেস্ট ৯-এ সুপার হেভি বুস্টার ও স্টারশিপ উভয়ই জ্বালানি লিকেজের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। বারবার ব্যর্থতা সত্ত্বেও স্পেসএক্স হাল ছাড়েনি। এই ব্যর্থতাগুলো প্রমাণ করে যে মহাকাশ গবেষণা কতটা কঠিন এবং বিপজ্জনক।