নয়া বিতর্কের মুখে উজ্জ্বল নিকম! রাজ্যসভার সাংসদ হয়েও স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরের পদে, আদালতের দ্বারস্থ আসামি

ভারতের রাজনৈতিক এবং আইনি ইতিহাসে এক নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত হওয়ার পরও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) পদে বহাল থাকায় আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম। এই বিষয়টি নিয়ে মুম্বাইয়ের একটি আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন এক খুনের মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিজয় পালান্ডে। আদালত উজ্জ্বল নিকম এবং মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উজ্জ্বল নিকমকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন। কিন্তু এরপরেও তিনি এসপিপি পদে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিজয় পালান্ডে। পালান্ডে তার আবেদনে বলেছেন, একজন সাংসদ হয়েও রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা লাভজনক পদে কাজ করা “গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগের” বিষয়।
বিজয় পালান্ডে তার আবেদনে সংবিধানের ১০২ (১) (ক) ধারা উল্লেখ করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীনে ‘লাভজনক পদে’ থাকেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। পালান্ডে অভিযোগ করেছেন, নিকমের এই একইসঙ্গে দুটি পদে থাকা তার বিরুদ্ধে মামলাটিকে “একতরফা বিষয়” এবং “ডেভিড এবং গোলিয়াথ যুদ্ধ” করে তুলবে। তিনি দাবি করেছেন, একজন সাংসদ হিসেবে নিকম ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনা করতে পারলেও রাজ্য সরকারের এসপিপি পদে থাকাটা নিয়ম বিরুদ্ধ।
এই অভিযোগের উত্তরে উজ্জ্বল নিকম এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেননি। তবে সাংসদ হিসেবে মনোনয়নের সময় তিনি বলেছিলেন, এসপিপি পদটি কোনো ‘লাভজনক পদ’ নয় এবং তিনি তার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আদালত আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিকমকে এই আবেদনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে বলেছে। এই মামলার রায় ভারতের আইনি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।