OMG! চেক নয়, বন্দুক দেখিয়ে ব্যাংক থেকে নিজের টাকাই লুট করলেন তরুণী, ভাইরাল ভিডিও

ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছিলেন বোন। এখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য দরকার সেই টাকা। কিন্তু নানা চেষ্টা করেও টাকা তুলতে না পেরে অবশেষে অস্ত্র দেখিযে ব্যাংক লুট করেছেন আরেক বোন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুক দেখিয়ে ব্যাংক লুট করা ওই নারীর নাম সালি হাফিজ। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্লম ব্যাংকের একটি শাখায় এই ঘটনা ঘটে এবং টাকা লুটের ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
রয়টার্স বলছে, ব্যাংকে টাকা আমানতকারীদের অ্যাডভোকেসি গ্রুপের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ওই নারী ও তার কয়েকজন সহযোগী বৈরুতে ব্লম ব্যাংকের একটি শাখায় বন্দুক দেখিয়ে কর্মীদের জিম্মি করে এবং পালিয়ে যাওয়ার আগে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি নগদ অর্থ নিয়ে যায়।
ব্লম ব্যাংক বলছে, একজন গ্রাহক এবং তার কয়েকজন সহযোগী একটি বন্দুক নিয়ে আসে এবং মানুষকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপক ও কোষাধ্যক্ষকে টাকা আনতে বাধ্য করে তারা।
আত্মগোপনে যাওয়ার আগে সালি হাফিজ নামের ওই নারী স্থানীয় নিউজ চ্যানেল আল জাদেদ টিভিকে বলেন, তার কাছে থাকা বন্দুকটি ছিল একটি খেলনা এবং তার বোনের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য তার অর্থের প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমার হারানোর আর কিছুই নেই, আমি রাস্তার শেষ প্রান্তে চলে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, দু’দিন আগে ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে দেখা করেছিলেন তিনি এবং তাতে পর্যাপ্ত সমাধান মেলেনি।
তার ভাষায়, ‘আমি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি আমার কিডনি বিক্রি করতে যাচ্ছি যাতে আমার বোনের চিকিৎসা করা যায়।’
A woman and her associates briefly held hostages at a bank in Beirut before leaving with more than $13,000 in cash from her own account. Lebanon’s banks have locked most depositors out of their savings since an economic crisis took hold three years ago https://t.co/nq58NdmHjq pic.twitter.com/TikCM5sOZq
— Reuters (@Reuters) September 14, 2022
ব্লম ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, ওই গ্রাহক তার বোনের চিকিৎসার জন্য তার অর্থ চেয়েছিল। ব্যাংকটি দাবি করেছে, সেসময় তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং নথিপত্র সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
সালি হাফিজের মা হিয়াম হাফিজ স্থানীয় টিভিকে বলেন, ‘ব্যাংকে আমাদের শুধু এই টাকাই ছিল। আমার মেয়েকে এই টাকা নিতে বাধ্য করা হয়েছে – এটা তার অধিকার, এটা তার অ্যাকাউন্টে আছে – তার বোনের চিকিৎসা করার জন্য।’
লেবাননের কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।