নেপালের মতো পরিস্থিতি কি বাংলাতেও হবে, বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর

নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাংলায় এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নেপালের মতো পরিস্থিতি ভারতে বা পশ্চিমবঙ্গে হবে কিনা, তা নিয়ে বিদেশমন্ত্রক ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখছেন। এই বিষয়ে কারও মন্তব্য করা উচিত নয়।

নেপালের পরিস্থিতি ও ভারতের গণতন্ত্র
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো আছে। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এক নম্বরে। এস জয়শঙ্করের মতো বিদেশমন্ত্রীও আছেন। তাই সবকিছু তাঁদের ওপর ছেড়ে দিন। দয়া করে প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন।” তিনি আরও বলেন যে, অন্য দেশের বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

এসআইআর নিয়ে শুভেন্দুর ইঙ্গিত
নেপালের পাশাপাশি এসআইআর নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, আজই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যগুলোর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং এসআইআর-এর নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। তার এই মন্তব্যের ফলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, তাহলে কি শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে?

উল্লেখ্য, বিহারে সম্প্রতি এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই নিয়ে বিতর্ক চলছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার কার্ডকে এসআইআর-এর নথি হিসেবে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এবং এসআইআর-এর বিরোধিতা করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সবাই আক্রান্ত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতার কনভয়— কেউই হামলা থেকে রেহাই পায়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেমন সিবিআই, ইডি, এনআইএ-র আধিকারিকদের উপরও হামলা হয়েছে, অথচ রাজ্যের পুলিশ অসহায়ের মতো লুকিয়ে থাকে।