বিপুল বিনিয়োগ, হুগলিতে অ্যামাজনের ২০ বছরের চুক্তি, তৈরি হবে বিশাল ওয়্যারহাউস

পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এবার এক নতুন পালক যোগ হতে চলেছে। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন সেলার সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড হুগলিতে একটি বিশাল ওয়্যারহাউস তৈরি করার জন্য ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিটি দেশের অন্যতম বড় ওয়্যারহাউস লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি এবং ওয়্যারহাউসের খুঁটিনাটি
নথিপত্র অনুযায়ী, হুগলির এই ওয়্যারহাউসটির আয়তন প্রায় ৫.৫৯ লক্ষ বর্গফুট। এর জন্য অ্যামাজনকে প্রতি মাসে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ভাড়া দিতে হবে। ২০ বছরের এই চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, নাহার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড এই ওয়্যারহাউসটি তৈরি করবে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারী থেকে জুনের মধ্যে তা অ্যামাজনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ভাড়ার আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শুরু হবে ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে, যা ২০ বছর ধরে চলবে। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ‘লক-ইন’ সময়সীমা থাকছে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে চুক্তি বাতিল করা যাবে না। ২০ বছর পর আরও তিন বছরের জন্য ভাড়ার মেয়াদ বাড়ানো যাবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর ভাড়ার পরিমাণ ১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যেই অ্যামাজন সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ ৭ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছে।
রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া ও কর্মসংস্থান
অ্যামাজনের এই বিনিয়োগকে রাজ্য সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে। শিল্প দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “অ্যামাজনের মতো বিশ্বমানের সংস্থা বাংলায় এত বড় গুদামঘর তৈরি করছে, যা শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, সমগ্র পূর্ব ভারতের জন্য গর্বের বিষয়।” তাঁর মতে, এই প্রকল্পে সরাসরি শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও একাধিক নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে বাংলার শিল্প পরিবেশ ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ভারতে অ্যামাজনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে অ্যামাজন নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এর আগেও তারা মুম্বইয়ে একাধিক বড় চুক্তি করেছে। গত বছর মুম্বইয়ের ভিখরোলিতে প্রায় ৯৪ হাজার বর্গফুটের একটি ওয়্যারহাউসের জন্য পাঁচ বছরের লিজ নবীকরণ করেছিল অ্যামাজন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মুম্বইয়ের আম্বারনাথে লোধা গ্রুপের কাছ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা খরচ করে ৩৮ একর জমিও কিনেছিল তারা। হুগলির এই বিশাল বিনিয়োগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।