একদিকে নেপালে ‘জেন-জি’ বিপ্লব, অন্যদিকে অশান্ত ফ্রান্স, কেন উত্তাল প্যারিস

নেপালের পর এবার উত্তাল ফ্রান্স। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বুধবার ‘ব্লক এভরিথিং’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা প্যারিসের রাস্তা অবরোধ করে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৮০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন এই বিক্ষোভ?
সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বেইরুকে বহিষ্কার করে ম্যাক্রো তার ঘনিষ্ঠ অনুগামী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু-কে (৩৯) নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। গত দুই বছরেরও কম সময়ে এটি ফ্রান্সের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন। লেকর্নুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়াকে বিক্ষোভকারীরা ম্যাক্রোর স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। এক আন্দোলনকারী সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, লেকর্নু-কে বেছে নেওয়া তাদের কাছে ‘গালে থাপ্পড়ের’ মতো মনে হয়েছে। তাদের মতে, ফ্রান্সে পরিবর্তন প্রয়োজন।

কী হচ্ছে প্যারিসে?
বুধবারের বিক্ষোভে প্যারিসের রাজপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে আবর্জনার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় অন্তত ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী জানিয়েছেন। বিক্ষোভের জেরে রেলের পাওয়ার লাইনেরও ক্ষতি হয়েছে।

কেন ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ?
২০২২ সালে পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই ম্যাক্রোর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে একাধিক আন্দোলন চলছে। খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানিতে ভর্তুকি হ্রাস, এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও ফরাসি কৃষকরা ধর্মঘট করেছিলেন। বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়লেও ম্যাক্রো পদত্যাগ করতে নারাজ। তিনি বিরোধীদের ‘ক্ষমতা-ক্ষুধার্ত’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করেছেন।

ফ্রান্সের এই অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। একদিকে নেপালে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিক্ষোভ, অন্যদিকে ফ্রান্সে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ— এই দুটি ঘটনাই কি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে?