নেই থিমের জাঁকজমক, তাও আমেরিকার প্রবাসী সদস্যরা ছুটে আসেন, ২৬৮ বছরের এই বনেদি বাড়ির পুজোয় কী বিশেষত্ব রয়েছে?

যখন দুর্গাপূজা মানেই থিমের জাঁকজমক, তখন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের একটি বনেদি বাড়ির পুজো আজও তার ঐতিহ্য আর সাবেকিয়ানা ধরে রেখেছে। হিরাপুরের কর্মকার বাড়ির প্রায় ২৬৮ বছরের পুরনো এই পুজোয় আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না থাকলেও, এর আকর্ষণ এতটুকু কমেনি। বরং এই পুজো দেখতে এখনো ভিড় জমান বহু মানুষ, এমনকি সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে আসেন বাড়ির সদস্যরাও।

১৭৫৭ সালে এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন নন্দলাল কর্মকার। কথিত আছে, তিনি দামোদর নদীতে স্নান করতে গিয়ে একটি ঘট পেয়েছিলেন এবং সেই ঘট দিয়েই প্রথম পুজো শুরু করেন। ৮০-৮৫ বছর ধরে এখানে প্রতিমা তৈরি করে পুজো করা হচ্ছে। এখানকার মায়ের মূর্তি সাবেকিয়ানার ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ ডাকের সাজে সজ্জিত থাকে।

এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কোনো পশু বলি প্রথা নেই। শুধুমাত্র চাল কুমড়ো ও আঁখ বলি দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের আরাধনা করা হয়। পুজোর ভোগে দেওয়া হয় মিঠাই, ফল এবং ঢেঁকি না থাকায় মেশিনে কোটা আতপ চালের ‘আর্সে’। মণ্ডপ সাজানো হয় ঝাড়বাতি ও পুরনো আমলের টিউবলাইট দিয়ে, যা থিমের আলোর থেকে একেবারেই আলাদা।

কর্মকার বাড়ির সদস্য গোপীনাথ কর্মকার বলেন, “এই পুজো হীরাপুরের মধ্যে আদি পুজো। শহরের থিমের মতো জাঁকজমক না থাকলেও, এখানকার রীতিনীতি আজও একই রকম রয়ে গেছে।” প্রত্যেক বছর পুজোর আগেই আমেরিকা থেকে কর্মকার বাড়ির সদস্যরা দেশে ফিরে আসেন এই ঐতিহ্যবাহী পুজোতে অংশ নিতে। ইতিমধ্যেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।