নেপালে নৈরাজ্য! গভীর রাতে কেন উত্তরকন্যায় ছুটলেন মমতা? প্রশাসনের জরুরি বৈঠক, সীমান্তে কড়া নজরদারি

নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যেহেতু নেপালের একটি বড় অংশ ভারতের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত, তাই এই উত্তেজনা ভারতের জন্যও চিন্তার কারণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার রাতেই উত্তরবঙ্গে গিয়ে প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যায় জরুরি বৈঠক করেছেন।

নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ইতিমধ্যেই সে দেশের সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিরতার বাতাবরণ তৈরি করেছে। রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে, যেমন দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর। গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো রোধ করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধ করা এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরকন্যায় থেকে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, বিএসএফ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী কয়েকটি জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন:

২৪ ঘণ্টা নজরদারি: সীমান্ত অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাতে হবে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ: সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে সতর্ক থাকতে হবে।

সচেতনতা: স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা প্রচার বাড়াতে হবে।

জরুরি প্রস্তুতি: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, রাজ্যের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার একমাত্র অগ্রাধিকার। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতা নাগরিকদের আশ্বস্ত করবে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রস্তুত।