“নয়া GST কি বিক্রি বাড়াবে?”-জেনেনিন কি বলছে ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে নতুন জিএসটি হার। আর একই দিনে উৎসবের মরশুমের শুরুতেই ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট শুরু করতে চলেছে তাদের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ‘বিগ বিলিয়ন ডে’। জিএসটি কমার ফলে এই বছরের বিগ বিলিয়ন ডে-তে তো বটেই, এমনকি সাধারণ সময়েও বিক্রি অনেকটাই বাড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
ফ্লিপকার্টের সাপ্লাই চেন এবং সেলার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারত চিনামানথুর বলেছেন, “একক জিএসটি কর কাঠামো তৈরির জন্য আমরা কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে কৃতজ্ঞ।” তিনি মনে করেন, এই নতুন ব্যবস্থা ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। এর ফলে ক্রেতাদের মধ্যে কেনাকাটার আগ্রহ বাড়বে, যা বিক্রি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
কেন্দ্রের এই জিএসটি সংস্কার কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME) সংস্থাগুলির জন্য নিয়ম মেনে চলা সহজ করবে। এর ফলে ছোট ব্যবসায়ী, কারিগর এবং তাঁতিরা সহজেই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে পারবেন।
ছোট শহরে ফ্লিপকার্টের নজর
দেশের ছোট ছোট শহরগুলি থেকে ই-কমার্সের ব্যবহার বাড়ছে। তাই ফ্লিপকার্ট এখন টিয়ার-টু এবং টিয়ার-থ্রি শহরগুলোতে তাদের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের হরিণঘাটায় সংস্থার সবচেয়ে বড় ফুলফিলমেন্ট সেন্টারটি অবস্থিত, যা থেকে ১০০০ পিনকোডে পণ্য সরবরাহ করা হয়।
ফ্লিপকার্ট তাদের প্ল্যাটফর্মের বিক্রেতাদের নানাভাবে সহায়তা করছে, যেমন:
ব্যবসার বৃদ্ধি সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহ।
কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, তা বিশ্লেষণ।
দ্রুত পণ্য ডেলিভারির ব্যবস্থা।
বিক্রির পূর্বাভাস
সাধারণত ফ্লিপকার্ট প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ডেলিভারি দেয়, কিন্তু ‘বিগ বিলিয়ন ডে’-এর সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দৈনিক ১ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ডাটুম ইন্টেলিজেন্সের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বছর উৎসবের মরসুমে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে মোট বিক্রি গত বছরের তুলনায় ২৭% বেড়ে ১.২ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। জিএসটি পরিবর্তন না হলে এই বৃদ্ধি মাত্র ৫-৭% হতো। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, জিএসটি হ্রাসের প্রভাব কতটা ইতিবাচক হতে চলেছে।