OMG! ধাবায় রাঁধুনির মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪৬ কোটির নোটিস পাঠাল আয়কর?

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! মাসে মাত্র ১০ হাজার টাকা আয় করেন এমন এক রাঁধুনিকে ৪৬ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি দেওয়ার নোটিশ পাঠিয়েছে ভারতের আয়কর দপ্তর। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলায়। প্রতারণার শিকার হয়ে নতুন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কারণেই এমন বিপদে পড়েছেন রবীন্দ্র সিং চৌহান নামের ওই ব্যক্তি।
রবীন্দ্র ভিন্দের গান্ধী নগরের বাসিন্দা এবং গোয়ালিয়রের একটি ছোট ধাবায় রান্নার কাজ করেন। তার জীবন চলে টেনেটুনে, কোনোমতে। এত বড় অঙ্কের নোটিশ পেয়ে তিনি আকাশ থেকে পড়েছেন। রবীন্দ্র বলেন, “আমি জীবনে এত টাকা চোখেও দেখিনি, তাহলে কর ফাঁকি দেব কীভাবে? আমার অ্যাকাউন্টে বছরে তিন লক্ষ টাকাও লেনদেন হয় না।”
রবীন্দ্রর অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর জানা যায়, এর পেছনে একটি বড় প্রতারণার চক্র কাজ করছে।
জানা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে রবীন্দ্র দিল্লিতে একটি টোল প্লাজায় সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তার সুপারভাইজার তাকে একটি নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য উৎসাহিত করেন। সুপারভাইজার বলেছিলেন, এই অ্যাকাউন্ট খুললে পিএফ সুবিধা এবং মাসে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ইনসেনটিভ পাওয়া যাবে। রবীন্দ্র সরল বিশ্বাসে তার পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি এবং অন্যান্য তথ্য দেন। অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও রবীন্দ্র কোনো অতিরিক্ত টাকা পাননি। তিনি অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করতে চাইলে সুপারভাইজার নানা অজুহাত দেখিয়ে তাকে বাধা দেন।
২০২২ সালে সেই সুপারভাইজার হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এদিকে, রবীন্দ্রর চাকরির চুক্তিও নবায়ন না হওয়ায় তিনিও কাজ হারান এবং পুনেতে চলে যান। এই সময়ের মধ্যে তিনি দিল্লির সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আর খোঁজ নেননি।
কোটি কোটি টাকার লেনদেন
আয়কর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্র সিং চৌহানের নামে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে—একটি ভিন্দের এবং অন্যটি দিল্লিতে। ভিন্দের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের পরিমাণ কম হলেও, দিল্লির অ্যাকাউন্টটি ‘শৌর্য ট্রেডিং কোম্পানি’ নামের একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই ৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে এখনও ১৩ লক্ষ টাকা জমা আছে।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল প্রথম নোটিশ আসে, কিন্তু রবীন্দ্র প্রথমে গুরুত্ব দেননি। ২৫ জুলাই দ্বিতীয় নোটিশ পাওয়ার পর তিনি আইনজীবীর সাহায্য নেন এবং প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি সিরাউল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখন রান্নার কাজ ছেড়ে প্রতিদিন আইনজীবীর সঙ্গে আয়কর অফিসে ছুটতে হচ্ছে তাকে, এবং এই বিপদের জেরে তিনি তার চাকরিটিও হারানোর ভয়ে আছেন।