দুর্গাপূজা মানেই মদ-গাঁজার আসর? স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়!

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়ালো বাংলাদেশে। দুর্গাপূজা মানেই মদ-গাঁজার আসর – বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর এমন মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশের হিন্দুরা। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাদের আশঙ্কা, এই মন্তব্যের জেরে আসন্ন দুর্গাপূজায় ফের নতুন করে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
সোমবার দুর্গাপূজা নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “পুজো উপলক্ষে আশেপাশে যে মেলা বসে সেখানে মদ ও গাঁজার আসর বসে। এবার মেলায় এসব হবে না। গাঁজা ও মদের আসর বসানো যাবে না। ২৪ ঘণ্টা পুজোমণ্ডপ পর্যবেক্ষণে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যাপ্ত আনসার নিযুক্ত করা হবে এবং দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা মণ্ডপ পর্যবেক্ষণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন মন্তব্যের পর বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় হতবাক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এর প্রতিবাদ করে লিখেছেন, “আমরা সবসময় নেশার বিরুদ্ধে। মদ-গাঁজাকে আমরা না বলি। সেখানে আমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব নিয়ে এমন মন্তব্য করা হলো!”
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছর দুর্গাপূজায় বিভিন্ন জায়গায় বাধার ঘটনা ঘটেছিল। এবার দুর্গাপূজার আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্যে হিন্দুদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই মন্তব্যের পর পুজোর মণ্ডপে হামলা হলে সরকার নিরাপত্তা দেবে না। এমনকি, মদ-গাঁজার আসর বসানোর মিথ্যা অভিযোগ এনে হিন্দুদের গ্রেফতারও করা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের কথা বললেও, মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ঘোষণা কেন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। এই মুহূর্তে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাপানউতোর চলছে।