ইংরেজি নয়, এ বারে বাংলাতেই AI–রোবটিক্স, নয়া উদ্যোগ নিলো IIT খড়্গপুর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনা মানেই ইংরেজি বইয়ের জটিল তত্ত্ব— এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিলেন খড়্গপুর আইআইটি-র অধ্যাপক দিলীপকুমার প্রতিহার। এবার স্কুলপড়ুয়াদের জন্য তিনি বাংলায় তৈরি করেছেন এআই ও রোবটিক্সের একটি বিশেষ পাঠ্যক্রম, যা শিক্ষক দিবসের সেরা উপহার বলে মনে করছেন অনেকেই।
স্কুলের পাঠ্যক্রমে রোবটিক্স অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পড়ুয়াদের মধ্যে এই বিষয়ে আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু বাংলাভাষী পড়ুয়াদের পক্ষে ইংরেজিতে জটিল বিষয়গুলি বোঝা কঠিন। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের বাসিন্দা দিলীপকুমার এই সমস্যাটি উপলব্ধি করেন। এর আগে তিনি ইংরেজিতে দুটি রোবটিক্স সংক্রান্ত পাঠ্যবই লিখেছিলেন, যা ২০০৯ সালে চিনা ভাষাতেও অনূদিত হয়েছিল। সারা বিশ্বের ছাত্রছাত্রীরা যখন তার লেখা বই পড়ছে, তখন বাংলার পড়ুয়ারা কেন মাতৃভাষায় এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।
রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন উপাচার্য স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দের অনুরোধে দিলীপকুমার এই কাজটি শুরু করেন। বেলুড়ে মাত্র আড়াই দিনের মধ্যে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য বাংলায় ১১ ঘণ্টার একটি পাঠ্যক্রম রেকর্ড করেন তিনি।
দিলীপকুমার প্রতিহার জানিয়েছেন, রোবট তৈরির জন্য জটিল অঙ্ক, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার পাশাপাশি মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রোগ্রামিংয়ের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু স্কুলপড়ুয়াদের পক্ষে এত কিছু জানা সম্ভব নয়। তাই তিনি এই পাঠ্যক্রমে গোটা বিষয়টি গল্পের ছলে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। রোবটের গঠন, প্রযুক্তি, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করে, তার সবকিছু হাতে-কলমে বাংলায় বুঝিয়েছেন।
বর্তমানে এই সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রমটি ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। দিলীপকুমার আশা করছেন, দেশের প্রতিটি রাজ্যের পড়ুয়ারা যাতে নিজেদের ভাষায় এআই এবং রোবটিক্স সহজে বুঝতে পারে, তার জন্য ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাতেও এই পাঠ্যক্রম তৈরির চেষ্টা করবেন তিনি। এই উদ্যোগটিকে নবম শ্রেণির সুপর্ণা পাল এবং দশম শ্রেণির চঞ্চল মণ্ডলরা শিক্ষক দিবসের সেরা উপহার হিসেবে দেখছে।