“মায়ের অপমানের বদলা ইভিএমে!”-মোদীর মায়ের ইস্যুতেই কি বিহার জিতবে NDA?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এবার এক ভিন্ন কৌশলে বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মায়ের অপমানকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে NDA শিবির। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সভায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বর্গতা মা-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি এখন সেই ঘটনাকে ব্যবহার করে মানুষের আবেগ উসকে দিয়ে ভোট টানতে চাইছে।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই কৌশল চূড়ান্ত হয়েছে। NDA-এর নেতা ও প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশ, তাঁরা যেন মানুষের কাছে এই প্রশ্ন তুলে ধরেন: “যে দল মায়ের সম্মান রাখে না, তারা কীভাবে রাজ্যের মানুষকে সম্মান দেবে?” বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, এই কৌশল ‘মাতৃত্বের অসম্মান’ ইস্যুতে ভোটারদের আবেগপ্রবণ করে তুলবে এবং এর প্রতিফলন পড়বে ইভিএমে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও এই ইস্যুতে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন এবং এবার সেই কথাকেই বিহারের সর্বত্র প্রচার করা হবে।

দলীয় সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে বিহারে ভোটার তালিকার সংশোধনী (SAR) ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু করেছে বিজেপি। বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা আসনে কর্মী সম্মেলন ডাকা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য মানুষকে বোঝানো যে শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নামই বাদ দেওয়া হচ্ছে, বিহারের কোনো আদি বাসিন্দার নয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে NDA নেতারা জোটের ঐক্য মজবুত করতে এবং বিহারের ‘জঙ্গলরাজ’ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে চাইছেন।

প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিজেপি এবার নতুন কৌশল নিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রদেশ নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি আসন থেকে তিন জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম, তাদের জীবনপঞ্জি, এবং ভালো-মন্দ দিকগুলোর তালিকা তৈরি করে দিল্লিতে পাঠাতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (CEC) এই তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে বিজেপি প্রার্থী বাছাইয়ে আরও কঠোর এবং স্বচ্ছ হতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।