‘প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিজের পছন্দ ব্যাক্তির সঙ্গে থাকার অধিকার আছে’, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়!

এক যুগান্তকারী রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের জবলপুর বেঞ্চ আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী তাঁর পছন্দের যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, এমনকি সেই পুরুষ যদি বিবাহিতও হন। আদালত জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।

বিচারপতি অমূল শ্রীধরন ও বিচারপতি প্রদীপ মিত্তলের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই মন্তব্য করে। মামলায় ‘এক্স’ নামে পরিচিত এক তরুণীকে তাঁর পরিবার জোর করে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু নথিপত্র অনুযায়ী, ওই তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনি স্বেচ্ছায় একজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আদালতে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের পর তরুণী জানান, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে চান এবং পরিবারের কাছে ফিরতে রাজি নন।

পিটিশনারের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, ওই পুরুষ বিবাহিত হওয়ায় তরুণীকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এর উত্তরে আদালত জানায়, “একজন প্রাপ্তবয়স্ককে পশুর মতো চালিত করা যায় না। তাঁর নিজস্ব মন, চিন্তাশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার আছে।” আদালত আরও জানায়, নৈতিকতার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না, বরং তাদের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক নারীর স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করা।

মামলার ফলাফল
আদালত পুলিশকে দুটি শর্তে ওই তরুণীকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়:

১. তরুণীকে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছেন।
২. সংশ্লিষ্ট পুরুষকেও লিখিতভাবে স্বীকার করতে হবে যে তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে থাকছেন।

এই শর্ত পূরণ হলে, আদালত ওই তরুণীকে তাঁর পছন্দের সঙ্গীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয়। আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যদি ওই নারী পরবর্তীতে সেই পুরুষকে বিয়ে করেন, তবে সেটি কেবল একটি ‘নন-কগনিজেবল অফেন্স’ হবে এবং সেক্ষেত্রে কেবল প্রথম স্ত্রীই দ্বিবিবাহের অভিযোগে মামলা করতে পারবেন। এই রায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে আইনিভাবে আরও শক্তিশালী করল।