“অযোগ্যদের গ্রুপ সি-র চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করছি'”-বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

শিক্ষক দিবসের আগে রাজ্যের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষারত্ন সম্মান ২০২৫ এবং সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা দশ বছর ধরে চাকরি করেছেন, তাঁরাও আজ অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছেন। আমি আইনি পরামর্শ নিচ্ছি।” এরপর তিনি আশ্বাস দেন যে, অযোগ্য প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এই শিক্ষকদের পাশে থাকবে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “হয়তো তাঁরা শিক্ষক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, কিন্তু তাঁদের অন্তত গ্রুপ সি-র চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। আমাদের সরকার মানবিক সরকার।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত চলমান বিতর্কের মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ঐতিহাসিক শিক্ষাব্যবস্থার গৌরবকেও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “একসময় বাংলার অ্যাসেম্বলিতেই সতীদাহ প্রথা রদের বিল পাশ হয়েছিল, যা পরে গোটা দেশে গৃহীত হয়। বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহ রদ করেছিলেন। বাংলাই পথ দেখিয়েছে। আমরা যেন আমাদের অস্তিত্ব ভুলে না যাই।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী, রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। এই প্রকল্পগুলোর ফলে রাজ্যে স্কুলছুটের হার কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। এবছর সেরা স্কুলগুলির তালিকায় রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলগুলোর প্রাধান্য থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও খেলাধুলায় উৎকর্ষের জন্য রাজ্যের সেরা ১২টি স্কুলকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও, মোট ৭৩ জন শিক্ষককে ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। এর মধ্যে ৩৯ জন স্কুলশিক্ষক, ২১ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ১৩ জন ভোকেশনাল ও আইআইটি-সম্পর্কিত বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু শিক্ষকদের হাতে মানপত্র, শাল, ঘড়ি, স্মারক, বই এবং ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উপস্থিত সকল শিক্ষককে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “যাঁরা সমাজ এবং শিক্ষালয় গড়েন, তাঁদের আমি সর্বোচ্চ সম্মান করি।”