SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য আধার বা ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক, নেপথ্যে কারণ জানলে চমকে যাবেন!

আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় দুর্নীতি রুখতে কমিশন বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, পরীক্ষার্থীদের জন্য আধার বা ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক করা। হঠাৎ করে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এসএসসি-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই আধার কার্ড অথবা ভোটার কার্ড নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এই পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখার পরই পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেওয়া হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের বেশ আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টায় পরীক্ষা শুরু হলেও, যাদের অ্যাডমিট কার্ডে ছবি বা সই সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের সকাল ১০টার মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, বহু পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ডে ছবি ও সই সঠিকভাবে আপলোড করেননি, যার কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যেত, সেগুলো বাতিল না করে বিকল্প হিসেবে পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ছবি বা সই ভুল ফরম্যাটে আপলোড হলে কেন আবেদন বাতিল করা হলো না? এর উত্তরে এসএসসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালের পরীক্ষার সময় সব অ্যাডমিট কার্ডে ছবি ছিল। এবারও পরীক্ষার্থীরা ছবি দিলেও, ফরম্যাটের ত্রুটির কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই হাজার হাজার আবেদনপত্র বাতিল না করে, আধার বা ভোটার কার্ড দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, গতবারের পরীক্ষার ওএমআর শিট বিতর্ক এড়াতে এবার পরীক্ষার্থীরা তাদের ওএমআর শিটের একটি কার্বন কপি সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন। পরবর্তীতে কমিশন ওয়েবসাইটে উত্তরপত্র প্রকাশ করলে পরীক্ষার্থীরা তা মিলিয়ে দেখতে পারবেন। এর ফলে উত্তরপত্রের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনও রকম অনিয়ম রুখতে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড, প্রয়োজনীয় নথি এবং পেন নিয়ে হলে প্রবেশ করতে পারবেন। হাতঘড়ি বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।