“ব্যাগে বন্দুক রয়েছে”-দিনেদুপুরে ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে ১২ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে পালাল দুষ্কৃতীরা

দিনদুপুরে বারুইপুর-ক্যানিং রোডের ওপর প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার দুপুরে খাবারের জন্য মোটরবাইক থামিয়ে রেস্তোরাঁয় ঢুকছিলেন ভাঙড়ের এক ধান ব্যবসায়ী। সেই মুহূর্তে দুষ্কৃতীরা তাঁকে বন্দুক দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনায় ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর দুই সঙ্গী ভয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং একজনকে আটক করেছে।
বুধবার বিকেলে ভাঙড়ের ধান ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন মোল্লা তার দুই সঙ্গীর সাথে মোটরবাইকে করে বারুইপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। ধান কেনার জন্য তার কাছে একটি কালো ব্যাগে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ছিল। বারুইপুর-ক্যানিং রোডের ছয়ানি এলাকায় পৌঁছলে তারা খাবারের জন্য একটি রেস্তোরাঁয় ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন।
শাহাবুদ্দিন মোটরবাইক থেকে নেমে হোটেলের দিকে এগোতেই হঠাৎ দুজন দুষ্কৃতী তাঁর কাঁধ থেকে ব্যাগটি টানতে শুরু করে। শাহাবুদ্দিন বাধা দিতে গেলে তারা চিৎকার করে ‘ব্যাগে বন্দুক রয়েছে’ বলে হুমকি দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আরও চারজন দুষ্কৃতী এসে তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এই আকস্মিক হামলায় হতভম্ব হয়ে পড়েন শাহাবুদ্দিনের দুই সঙ্গী এবং তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে যান।
ছয়জন দুষ্কৃতী মিলে মারধরের পর শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় তিনি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পেয়েছেন। খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
শাহাবুদ্দিন মোল্লা বুধবার রাতেই বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ছিনতাইয়ের পেছনে পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারণ, ব্যবসায়ীর ব্যাগে যে এত বড় অঙ্কের টাকা রয়েছে, তা বাইরের কারও জানার কথা নয়। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।