মাসে বেতন ২৬ লক্ষ টাকা! তবুও সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খান স্বামী, কারণ কী? সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন মনের কথা

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কী সবচেয়ে জরুরি— ভালোবাসা, নাকি টাকা? এই প্রশ্ন নিয়েই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যা নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। গুরুগ্রামের এক সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন যে, সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি হিসেবে তিনি কতটা চাপে আছেন।
কেন এমন অভিযোগ?
PayU-তে কর্মরত ওই ৩৪ বছর বয়সী ব্যক্তি জানান, তাঁর বার্ষিক আয় ২৬ লক্ষ টাকা হলেও, প্রতি মাসে খরচের পর তাঁর হাতে মাত্র ১৫,০০০ টাকা পড়ে থাকে। তাঁর স্ত্রী গত ৭ বছর ধরে গৃহিণী এবং তাঁদের একটি ছোট মেয়ে আছে। এই একার রোজগারে কীভাবে সঞ্চয় করবেন, তা ভেবেই তিনি দিশেহারা।
তাঁর মাসিক খরচগুলো হল:
বাড়ি ভাড়া: ৪০,০০০ টাকা
খাবার ও অন্যান্য বিল: ৩০,০০০ টাকা
গাড়ির ইএমআই: ১৬,০০০ টাকা
বাবা-মাকে পাঠানো: ২০,০০০ টাকা
মেয়ের স্কুল ও অন্যান্য খরচ: ৫০,০০০ টাকা
‘অন্য কাউকে বিয়ে করলেই ভালো হত’
ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি মনে করেছিলেন বিয়ের পর স্ত্রী হয়তো কাজ শুরু করবেন। কিন্তু সাত বছর পরও তাঁর তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, “মা হিসেবে আমার স্ত্রী অসাধারণ, কিন্তু অন্য দম্পতিদের যখন একসঙ্গে রোজগার করতে দেখি, তখন হিংসে হয়।”
আর্থিক এবং মানসিক চাপের কারণে তিনি এতটাই হতাশ যে তিনি লিখেছেন, “আমি সমস্ত ভার বহন করতে করতে ক্লান্ত। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার এমন কাউকে বিয়ে করা উচিত ছিল, যে রোজগার করে।”
সমালোচনার মুখে নেটিজেনরা
ওই ব্যক্তির পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ তাঁর উচ্চ খরচের সমালোচনা করে বলেছেন, “৪০ হাজার টাকা ভাড়া আর মেয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ! এটা টাকা ব্যবস্থাপনার অভাব।”
অন্যদিকে, অনেকে আবার তাঁর স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে বলেছেন, “আপনি কি ঘরের কাজে এবং মেয়ের দেখভালে সাহায্য করেন? যদি না করেন, তবে তাঁর কাছ থেকে কাজ আশা করা ঠিক নয়।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পারস্পরিক যোগাযোগ। দম্পতিদের নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। এতে আর্থিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয় এবং মানসিক চাপও কমে।