ডাকা ডাকিতেও নেই সাড়া, বেরচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ! প্রাক্তন অধ্যাপকের বাড়ি থেকে উদ্ধার স্ত্রী ও মেয়ের পচাগলা দেহ, কী ঘটেছিল?

মর্মান্তিক এক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুরমাঠ এলাকায়। প্রাক্তন অধ্যাপকের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অনুমান, দুজনেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং সেই কারণেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মা ও মেয়ের একসঙ্গে এই রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বাড়ির গৃহকর্তা স্বপন ভট্টাচার্য আরামবাগের একটি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। এক বছর আগে তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী শিখা ভট্টাচার্য (৫৬) এবং মেয়ে তৃষা ভট্টাচার্য (৩০) বাড়িতে একাই থাকতেন। তৃষার বিয়ে হলেও তিনি মায়ের কাছেই থাকতেন। প্রতিবেশীরা জানান, গত ৬-৭ দিন ধরে তাঁদের বাড়ির বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী নিমন্ত্রণ করতে এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। এরপর বাড়ির কাছ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে। প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দুজনের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
কেন এই ঘটনা?
পরিবারের এক আত্মীয় চঞ্চল গাঙ্গুলি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তৃষার বিয়ে হলেও তিনি মায়ের কাছেই থাকতেন। এর আগেও একবার এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন অনেক ডাকাডাকি করার পর দরজা খোলা হয়েছিল এবং তখন তাঁদের অনেক বোঝানো হয়েছিল। আত্মীয়ের ধারণা, মা-মেয়ে দুজনেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ৪-৫ দিন আগে বিষাক্ত কিছু খেয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটের ওপর ভিত্তি করে এই মৃত্যুর পেছনের আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।