অমরত্বের সন্ধানে পুতিন ও শি জিনপিং! ‘ফাঁস’ সমস্ত গোপন কথোপকথন, মাথাব্যথা বাড়ল ট্রাম্পের

সাধারণ মানুষের কাছে ‘অমরত্ব’ হয়তো কেবলই বিজ্ঞানের কল্পকাহিনী, কিন্তু দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এটি এখন আলোচনার বিষয়। সম্প্রতি চীনের তিয়ানানমেন স্কোয়ারে এক অনুষ্ঠানে এই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ‘অমরত্ব’ নিয়ে হওয়া গোপন কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেছে। মাইক্রোফোনে ধরা পড়া এই কথাবার্তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মার্কিন মিডিয়ার মতে, এটি তাদের চিরকাল ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছারই প্রতিফলন।
কেন এই কথোপকথন?
মার্কিন মিডিয়ার কটাক্ষ দূরে সরিয়ে রাখলেও, ৭২ বছর বয়সী এই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনাটি বেশ গম্ভীর ছিল। শি জিনপিংকে বলতে শোনা যায়, “মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতির কারণে এখন ৭০ বছরেও শিশুর মতো বেঁচে থাকা সম্ভব। আগে তো ৭০ বছর বয়সেই মানুষ মারা যেত।” তার কথা অনুবাদ করে দেওয়ার পর পুতিন বলেন, “আর কয়েক বছরের মধ্যে বায়োটেকনোলজি এমন পর্যায়ে পৌঁছবে, যেখানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে মানুষ আরও বেশি দিন সুস্থভাবে বাঁচতে পারবে, এমনকি অমরও হতে পারবে।”
শি জিনপিং এরপর বলেন, “খুব বেশিদিন নয়, এই শতাব্দীতেই মানুষের পক্ষে ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব হবে।” এই কথোপকথনের সময় সেখানে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্পের জন্য কেন মাথাব্যথা?
পুতিন ও শি-এর এই আলোচনা ট্রাম্পের জন্য নতুন মাথাব্যথা তৈরি করেছে। কারণ, এই তিন নেতারই লক্ষ্য হলো আজীবন নিজ নিজ দেশের ক্ষমতা ধরে রাখা।
শি জিনপিং: ২০১৮ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে আজীবন প্রেসিডেন্ট পদে থাকার আইন করেছেন।
ভ্লাদিমির পুতিন: ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করেছেন।
কিম জং উন: পারিবারিক সদস্যদেরও ক্ষমতা দখলের চেষ্টা থেকে বিরত রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের নিজের স্বাস্থ্য নিয়েও নানা গুজব চলছে। তার হাতে একটি স্থায়ী কালো দাগ এবং সেটি মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দুই প্রধান প্রতিপক্ষের ‘অমরত্ব’ নিয়ে আলোচনায় শিরোনামে আসা স্বাভাবিকভাবেই তার জন্য এক নতুন চিন্তার কারণ হবে।