জম্মু-কাশ্মীরের শিক্ষক কুলদীপ গুপ্তাকে জাতীয় সম্মান, কেন তিনি অন্যদের থেকে আলাদা

শিক্ষক দিবসে জাতীয় শিক্ষক সম্মাননা পেতে চলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের স্কুল শিক্ষক কুলদীপ গুপ্তা। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। গত ৩০ বছর ধরে হাতে-কলমে বিজ্ঞানের শিক্ষা দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছেন এই ব্যতিক্রমী শিক্ষক।
কে এই কুলদীপ গুপ্তা?
কুলদীপ গুপ্তা জম্মুর বিষ্ণা গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জুলজি-তে মাস্টার্স করার পর তিনি ১৯৯২ সাল নাগাদ শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তার লক্ষ্য ছিল শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে আগ্রহী হলেই তাদের জ্ঞানের সঠিক বিকাশ হবে।
‘বিজ্ঞানকে সহজ করে তুলতে’ তার অবদান
কুলদীপ সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘চিলড্রেনস সায়েন্স কংগ্রেস’-কে জনপ্রিয় করে তোলেন। ২০০০ সালের আগে যেখানে শুধু বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিত, সেখানে তিনি সরকারি স্কুলগুলোকে এর আওতায় নিয়ে আসেন। তার এই প্রচেষ্টার ফলে জম্মু অঞ্চলের ১০টি জেলার সব সরকারি স্কুলে এই প্রোগ্রাম চালু হয়।
তিনি ‘কম খরচে ও বিনামূল্যে শিক্ষাদান’ বা ‘কবার সে জুগাড়’ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। এর মাধ্যমে ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের কঠিন ধারণাগুলো সহজে বুঝতে পারে। তিনি বলেন, “জটিল ল্যাবরেটরির প্রয়োজন নেই, হাতের কাছে থাকা জিনিস দিয়েই শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের ধারণা শিখতে পারে।” তার এই পদ্ধতি এতটাই কার্যকরী হয়েছে যে, অনেক স্কুলছুট শিক্ষার্থীও আবার পড়াশোনায় ফিরে এসেছে।
সম্মান ও স্বীকৃতি
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য কুলদীপ গুপ্তাকে ২০২১ সালে কাশ্মীর সরকার ‘সেরা শিক্ষক’ পুরস্কারে ভূষিত করেছিল। এবার তিনি জাতীয় শিক্ষক সম্মাননা পেতে চলেছেন। কুলদীপ জানান, তার এই সাফল্য তার শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং পরিবারের কঠোর পরিশ্রম ও সহযোগিতার ফল।