দিনের ব্যস্ত সময়ে ভিড়ে ঠাসা মেট্রো! যাত্রীদের অভিযোগে অবশেষে কী সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ?

কলকাতা মেট্রোর নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সমাধান করতে এবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষত, দিনের ব্যস্ত সময়ে ভিড় এবং পরিষেবা বিলম্বের সমস্যা কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মেট্রোর সমস্যা ও কর্তৃপক্ষের নতুন পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা অভিযোগ করছিলেন যে মাত্র আধ ঘণ্টার পথ পেরোতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। এর অন্যতম কারণ ছিল ব্লু লাইন (শহিদ ক্ষুদিরাম-নোয়াপাড়া) থেকে ইয়েলো লাইনে (এয়ারপোর্ট-নোয়াপাড়া) রেক এবং মোটরম্যান সরবরাহ করা। এই সমস্যার সমাধানে মেট্রো কর্তৃপক্ষ কয়েকটি নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

ব্লু লাইন ও ইয়েলো লাইন পৃথকীকরণ: এখন থেকে ব্লু লাইন এবং ইয়েলো লাইন সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালিত হবে। ব্লু লাইনের রেক আর ইয়েলো লাইনে যাবে না, ফলে যাত্রীদের নোয়াপাড়ায় ট্রেন পরিবর্তন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্লু লাইনের পরিষেবা অনেকটাই মসৃণ হবে।

অতিরিক্ত রেক সরবরাহ: নর্থ-সাউথ লাইনে রেকের জোগান বজায় রাখতে মহানায়ক উত্তম কুমার এবং নোয়াপাড়া স্টেশনে তিনটি করে অতিরিক্ত রেক রাখা হবে। প্রয়োজনে এই রেকগুলি দ্রুত পরিষেবাতে যুক্ত করা যাবে।

টালিগঞ্জের শেড ব্যবহার: বহুদিন ধরে অব্যবহৃত টালিগঞ্জের শেডটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাতের কাজ: যাত্রীদের সুবিধার্থে কবি সুভাষ সংক্রান্ত সমস্ত কাজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা রাতের দিকে (নন-কমার্শিয়াল আওয়ার) করা হবে।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা এবং কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
সম্প্রতি মেট্রো কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দাবি করেছিল যে ব্লু লাইনের পরিষেবা অনেকটা মসৃণ হয়েছে। তবে যাত্রীরা জানাচ্ছেন, বাস্তবে ভিড়, লম্বা লাইন এবং পরিষেবায় বিলম্বের সমস্যা আগের মতোই আছে।

মেট্রো ভবনের এক আধিকারিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কিন্তু অন্য একজন আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে নতুন রুট চালু হলে ভিড় বাড়বে, এটি প্রত্যাশিতই ছিল। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা করেছে যে, কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনে কাজের কারণে ডাউন লাইনের খালি রেককে লুপ লাইন দিয়ে আপ-লাইনে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগছে, যার ফলে পরবর্তী ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই সাময়িকভাবে কিছু ট্রেনের যাত্রা মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।

এই সমস্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে যাত্রীরা আরও দ্রুত এবং মসৃণ পরিষেবা পাবেন, যদিও বাস্তব ফলাফল এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।