GST-স্ল্যাব কমলে ‘ক্ষতি’ হবে কি রাজ্যগুলির? জেনেনিন কি বলছে SBI রিসার্চ

জিএসটি-র চারটি স্ল্যাব (৫, ১২, ১৮, ২৮ শতাংশ) কমিয়ে দুটি (৫, ১৮ শতাংশ) করার কেন্দ্রীয় প্রস্তাব নিয়ে রাজ্যগুলির মধ্যে যখন বিতর্ক চলছে, তখন এসবিআই রিসার্চের একটি নতুন রিপোর্ট আশার আলো দেখাচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, করের হার সরলীকরণ করা হলেও রাজ্যগুলির কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না, বরং তারা লাভবানই থাকবে।
রাজ্যগুলির লাভ কী করে হবে?
এসবিআই রিসার্চের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির রাজস্ব ক্ষতির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা অমূলক। তাদের রিপোর্ট থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে:
- রাজস্ব বণ্টন: জিএসটি থেকে যে রাজস্ব আদায় হয়, তা কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমানভাবে অর্থাৎ ৫০:৫০ অনুপাতে ভাগ করা হয়।
- ট্যাক্স ডিভলিউশন: রাজস্বের ৪০ শতাংশ কেন্দ্রের কাছে থাকার পর, তার ৪১ শতাংশ আবার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যগুলিতে ফেরত যায়। সব মিলিয়ে, জিএসটি থেকে মোট রাজস্বের প্রায় ৭০ শতাংশ রাজ্যগুলির কাছেই ফিরে আসে।
- রাজস্ব বৃদ্ধি: এসবিআই রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কর ব্যবস্থা চালু হলেও চলতি অর্থবছরে রাজ্যগুলির মোট রাজস্ব ১৪.১০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হবে। এর মধ্যে ১০ লক্ষ কোটি টাকা স্টেট জিএসটি হিসেবে এবং ৪.১০ লক্ষ কোটি টাকা ডিভলিউশনের মাধ্যমে রাজ্যগুলি পাবে।
আগের অভিজ্ঞতা কী বলছে?
এর আগেও ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে জিএসটি হারে বদল আনা হয়েছিল। তখন সাময়িকভাবে মাসিক জিএসটি আদায় ৩-৪ শতাংশ কমলেও, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব আদায় প্রতি মাসে ৫-৬ শতাংশ করে বেড়েছিল। গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে, করের হার সরলীকরণকে চাহিদার স্বল্পমেয়াদি উদ্দীপক হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
রাজ্যগুলির আশঙ্কা ও কেন্দ্রের প্রস্তাব
কেন্দ্রের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আটটি বিরোধী শাসিত রাজ্য তাদের আনুমানিক ১.৫-২ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তাদের মতে, জিএসটি হার সরলীকরণের ফলে তাদের রাজস্ব ব্যাপক ক্ষতির শিকার হবে।
এসবিআই রিসার্চের মতে, বর্তমানে জিএসটি-র কার্যকর গড় হার ১১.৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা জিএসটি চালুর সময় ছিল ১৪.৪ শতাংশ। যদি নতুন প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হয়, তবে এই গড় হার ৯.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। কিন্তু এর ফলে রাজ্যগুলির কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।