S-400 ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ভারত-রাশিয়ার মধ্যে হতে পারে নতুন চুক্তি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মজবুত সম্পর্ক?

ভারত ও রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক যে এখনও দৃঢ়, সম্প্রতি ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এবার সেই বক্তব্যেরই যেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল। সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশ তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চলেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা TASS-এর খবর অনুযায়ী, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে আরও অত্যাধুনিক S-400 (সারফেস-টু-এয়ার) মিসাইল কেনার জন্য আলোচনা শুরু করেছে।
রুশ কর্মকর্তাদের কথায় সম্পর্কের দৃঢ়তা
রাশিয়ার ফেডারেল সার্ভিস ফর মিলিটারি টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ এই খবর নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ভারতের এই সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকার প্রবল চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে পণ্য কেনা বন্ধ করেনি। এই ঘটনা মস্কোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত-রাশিয়ার সামরিক বোঝাপড়া
ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত সামরিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। দুই দেশ যৌথভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- টি-৯০ (T-90) ট্যাঙ্ক
- এসইউ-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) যুদ্ধবিমান
- মিগ-২৯ (MiG-29)
- কামভ হেলিকপ্টার
এছাড়াও, ভারতে একে-২০৩ (AK-203) রাইফেল উৎপাদন এবং ব্রাহ্মোস (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রকল্পগুলো দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে।
S-400 কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, S-400 ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন, ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। সে সময় S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একাধিক পাকিস্তানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। এটি ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ৩৬ শতাংশই ছিল রাশিয়া থেকে। ফ্রান্স এবং ইজ়রায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা বাড়লেও, ভারতের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব এখনও অটুট রয়েছে।