মেয়রোডে সেনা-পুলিশের গাড়ি নিয়ে তুমুল বিতর্ক! ‘FIR করতে দীর্ঘ সময় কেন?’, ফারাক নিয়ে প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে

সম্প্রতি কলকাতায় দুটি ভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও সেনার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুটি ঘটনাতেই অভিযোগকারী পুলিশ হলেও, এফআইআর (FIR) দায়ের এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে, যা প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।

ঘটনা ১: বিধায়কের কনভয়ের গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু
মঙ্গলবার ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার কনভয়ের একটি গাড়ির ধাক্কায় এক বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

অভিযোগ: বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ি: তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনা ঘটানো পুলিশের গাড়িটি ছিল ১৬ বছরের পুরনো এবং তার মেয়াদ আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। মোটর ভেহিকেলস বিভাগ কর্তৃক বাতিল হওয়া সত্ত্বেও এই গাড়ি কীভাবে পাইলট কার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া: পুলিশের গাড়ির চালককে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি, কারণ তিনি নিজেও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ডিসি ট্র্যাফিক ইয়েলওয়াদ শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় থানা তদন্ত করছে।

ঘটনা ২: মেয়ো রোডে সেনার ট্রাকের সিগন্যাল ভাঙা
এর ঠিক পরেই মঙ্গলবার সকালে মেয়ো রোডে একটি সেনা ট্রাকের বিরুদ্ধে সিগন্যাল অমান্য করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

দ্রুত এফআইআর: হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ডের একজন সার্জেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে হেয়ারস্ট্রিট থানায় সেনার গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেনা ট্রাকটির পিছনে আসা একটি লাল গাড়িও একই সময়ে সিগন্যাল অমান্য করে। কিন্তু কেবল সেনার গাড়ির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে যে, পুলিশের নিজের গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২৪ ঘণ্টা লাগলেও, সেনার গাড়ির বিরুদ্ধে এত দ্রুত কেন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

বিতর্কের মূল কারণ

এই দুটি ঘটনা প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। বিরোধীদের মতে, বিধায়কের কনভয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুলিশের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মঞ্চ সরানোর মতো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেনার গাড়ির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই বৈষম্যপূর্ণ পদক্ষেপের কারণ এখনও স্পষ্ট নয় এবং এই নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।