তিন মহাশক্তি এক মঞ্চে! পুতিন ও কিমকে পাশে নিয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিলেন শি জিনপিং

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক বিশাল বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। এই কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে দেখা গেছে। তিন পরাশক্তির এই এক মঞ্চে আসা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিয়ানানমেন স্কোয়ারে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করে শি জিনপিং বলেন, চীন কোনো হুমকিকে ভয় পায় না এবং নিজেদের সৈন্যদের সম্মান করতে জানে। এই কুচকাওয়াজে চীন তাদের সামরিক শক্তির এক ঝলক প্রদর্শন করে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। এই প্রথমবার এই তিন নেতা একসাথে একটি প্রকাশ্য মঞ্চে উপস্থিত হলেন।
পুতিনের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া অস্ত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকটে ভুগছিল। চীনের এই পদক্ষেপ পুতিনের জন্য বড় স্বস্তির কারণ। বেইজিং জানিয়েছে, তারা রাশিয়াকে ‘দ্বৈত-ব্যবহারের’ অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাবে, যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজেই ব্যবহৃত হতে পারে।
বিজয় কুচকাওয়াজের পর পুতিন ও কিম জং-উন একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন। কিম বলেন, “যদি আমরা রাশিয়াকে যেকোনোভাবে সাহায্য এবং সমর্থন করতে পারি, তাহলে আমরা সর্বদা তা করব। এটি আমাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কর্তব্য।” পুতিন এই বন্ধুত্বকে ‘সত্যিকারের জোটে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন যে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই পদক্ষেপ পুতিনের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। ধারণা করা হচ্ছে যে পুতিন বেইজিং থেকে ফিরে আসার পর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবেন এবং হামলা আরও তীব্র হতে পারে।