ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ রুখতে ভারতের ৪ অস্ত্র, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে মোদীর মাস্টারপ্ল্যান!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে ভারত এখন কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এরই মধ্যে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির (৭.৮%) পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের অর্থনীতিকে দুর্বল ভাবা ভুল। ট্রাম্পের ‘মৃত অর্থনীতি’র মন্তব্যের পর ভারত এখন শুল্কের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় চারটি বিশেষ কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিশেষ প্যাকেজ তৈরি করছে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই প্যাকেজে চারটি প্রধান প্রকল্প থাকবে, যার মূল লক্ষ্য ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০% শুল্কের প্রভাব কমানো।
এই পরিকল্পনা বিশেষ করে পোশাক, রত্ন ও অলংকার, চামড়া, পাদুকা, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং কৃষি-সামুদ্রিক পণ্যের মতো শ্রম-নিবিড় ক্ষেত্রগুলিকে সাহায্য করবে। এর উদ্দেশ্য হল ছোট কোম্পানিগুলিকে আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দেওয়া, কর্মসংস্থান বজায় রাখা এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য সময় দেওয়া।
এই নতুন প্যাকেজটি অনেকটা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ঘোষিত ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্যাকেজের মতো হবে। সেই প্যাকেজে ৩ লক্ষ কোটি টাকার ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (ECLGS) ঘোষণা করা হয়েছিল, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME)-এর জন্য ছিল। নতুন এই প্যাকেজও রপ্তানিকারকদের স্থিতিশীলতা প্রদান এবং উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৮-২০% গ্রহণ করে, যা তাদের ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার করে তোলে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন শুল্ক আরোপের ফলে প্রায় ৬৬% ভারতীয় রপ্তানি, যার মূল্য প্রায় $৬০.২ বিলিয়ন ডলার, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বুধবার রপ্তানিকারকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক এবং অ-আর্থিক উভয় বাধা দূর করে ছোট এবং শ্রম-নিবিড় শিল্পগুলিকে সহায়তা করা। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে সুদ ভর্তুকি, ফ্যাক্টরিং সুবিধা এবং জামানত সহায়তা।