ফের ভয়ঙ্কর সাইবার প্রতারণা! এবার টার্গেট হলো বৃদ্ধা, পহেলগাম হামলার নামে ৪৩ লক্ষ টাকার জালিয়াতি

সাইবার প্রতারণার ঘটনা এবার এক নতুন এবং ভয়ঙ্কর রূপ নিল। এবার নয়ডায় এক বৃদ্ধার সঙ্গে প্রতারণা করে ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি হাতিয়ে নিল একদল জালিয়াত। প্রতারণার জন্য তারা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাম জঙ্গি হামলার মতো সংবেদনশীল ঘটনাকে।
কীভাবে হলো এই প্রতারণা?
নয়ডার সেক্টর ৪১-এর বাসিন্দা সরলা দেবীর (Old Woman) কাছে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দেন। তিনি বৃদ্ধাকে জানান, তার নাম, ফোন নম্বর এবং পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মুম্বইয়ে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করে হাওলা, জুয়া এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এমনকি, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার সঙ্গেও তার নম্বর যুক্ত থাকার ভয় দেখানো হয়।
প্রতারকরা বৃদ্ধাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামানত হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিতে হবে। পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এই ফাঁদে পা দিয়ে সরলা দেবী গত ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে আট দফায় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে মোট ৪৩.৭ লক্ষ টাকা পাঠান।
পুলিশের তদন্ত ও সতর্কতা
একসময় যখন তাকে আরও ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং গ্রেফতারির ভয় দেখানো হয়, তখন তার সন্দেহ হয়। তিনি একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেন এবং বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই তিনি টাকা পাঠানো বন্ধ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
নয়ডা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, টাকাগুলো বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট, যেমন ‘বরিন্দর পাল সিং’, ‘মদন কুমার’, ‘মঞ্জু জেনারেল স্টোর’ এবং ‘আশাপুরা টি স্টল’-এর নামে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তির সঙ্গে কম পরিচিত প্রবীণ নাগরিকরা বারবার এ ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পুলিশ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, এই ধরনের ফোন বা মেসেজ থেকে সতর্ক থাকতে।