নতুন আইনে ঢালাও ছাড়! অনুপ্রবেশকারী নাগরিকদের জন্য চালু ডিটেনশন ক্যাম্প, করা পাবেন বাড়তি সুবিধা?

অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশের সব রাজ্যকে ডিটেনশন ক্যাম্প বা আটক শিবির তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড়ও ঘোষণা করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কাদের জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প?
কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত বিদেশি নাগরিকের ভারতে বসবাসের জন্য বৈধ নথি নেই, তাদের ধরে এই ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে এবং পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এটি সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ এর অধীনে একটি পদক্ষেপ।
ছাড় পেল কারা?
তবে কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য কেন্দ্র সরকার ছাড় ঘোষণা করেছে:
ধর্মীয় নিপীড়িত সংখ্যালঘু: বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা, যারা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে এসেছেন, তাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
নেপাল ও ভুটানের নাগরিক: নেপাল এবং ভুটানের নাগরিকরা স্থল বা আকাশপথে ভারতে প্রবেশের সময় পাসপোর্ট বা ভিসা না দেখালেও চলবে। একইভাবে ভারতীয় নাগরিকদেরও এই দুটি দেশে ভ্রমণের জন্য নথিপত্র দেখাতে হবে না। তবে চীন, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হয়ে এলে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
সামরিক ও সরকারি কর্মী: ভারতীয় সেনা, বায়ুসেনা বা নৌসেনার সদস্য, এবং সরকারি কাজে যুক্ত কর্মকর্তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ভারত থেকে বাইরে যাওয়ার সময় বা ফিরে আসার সময় পাসপোর্ট বা ভিসা দেখানোর প্রয়োজন নেই।
এই ঘোষণার ফলে অনেক শরণার্থী, বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দুরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই আইন তাদের নাগরিকত্বের কোনো গ্যারান্টি দিচ্ছে না, কেবল ভারতে থাকার অনুমতি দিচ্ছে।