অবশেষে মুখ খুললেন সন্তানহারা ইনফ্লুয়েন্সার সোহিনী! ২২ অগাস্ট ভোর থেকে কী কী ঘটেছিল? ভয়ঙ্কর অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?

গর্ভেই সন্তানের মৃত্যুর পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী অনির্বাণ দে রায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এই ভিডিওতে তাঁরা ২২শে আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন এবং চিকিৎসকের দেওয়া আগের বয়ানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত
২২শে আগস্ট প্রসবের আগেই সোহিনীর গর্ভে সন্তানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই সোহিনী এবং তাঁর পরিবার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তবে পরে ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।

এই বিতর্কে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চিকিৎসকও একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ২২ তারিখ সকালে সোহিনীর স্বামী ফোন করে জানান যে শিশু নড়ছে না। তিনি তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে আসতে বলেন। পরীক্ষা করে দেখেন যে শিশুটির হার্ট সাউন্ড নেই এবং সোহিনীর রক্তচাপও বেশি ছিল। তিনি আরও জানান, সোহিনী ও তাঁর স্বামী অন্য একটি হাসপাতালে আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে এসেছিলেন এবং সেখানে সব ঠিক আছে বলে রিপোর্ট ছিল। সেই রিপোর্ট নিয়ে তাঁরা তাঁর কাছে ফিরে আসেন।

চিকিৎসক আরও অভিযোগ করেন, সোহিনীর পরিবার তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে কিছু দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে হেনস্থা করে। তিনি জানান, সোহিনীর অতিরিক্ত রক্তচাপ ও দৌড়ঝাঁপের কারণে গর্ভে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছিল, যার ফলে শিশুটির মৃত্যু হয়।

সোহিনীর নতুন ভিডিওতে পাল্টা অভিযোগ
চিকিৎসকের এই ভিডিওর পর নেটিজেনদের একাংশ সোহিনীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করতে শুরু করে এবং অভিযোগ করে যে পাবলিসিটির জন্য তিনি এমন ভিডিও বানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার রাতে সোহিনী এবং তাঁর স্বামী অনির্বাণ প্রায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

তাঁরা দাবি করেন, গর্ভাবস্থা শুরুর থেকেই তারা চিকিৎসকের সব পরামর্শ মেনে চলেছেন। তাঁরা চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনও ভিডিওতে দেখিয়েছেন। অনির্বাণ বলেন, ডাক্তার কখনও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে তাঁদের সতর্ক করেননি। অথচ শেষের দিকে তাঁর উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেওয়া হয়।

দম্পতি আরও অভিযোগ করেন যে, ঘটনার দিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শিশুটির হৃদস্পন্দন ছিল, যা চিকিৎসক নিজেও নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু ক্রমশ সোহিনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং রক্তপাত শুরু হলে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে আবার সেই চিকিৎসকের কাছে ফিরে আসেন তাঁরা। তখন চিকিৎসক জানান যে তাঁদের সন্তান মারা গেছে। চিকিৎসকের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে হতভম্ব হয়ে যান সোহিনী এবং তাঁর স্বামী।

ভিডিওতে তাঁরা আরও জানান, এই দুঃসময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের কাছে তাঁরা কৃতজ্ঞ। এর পর এই বিষয়ে তাঁদের আর কোনো বক্তব্য থাকবে না বলেও তাঁরা জানান। তবে সোহিনী এবং চিকিৎসকের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।