গেমের নেশাই কাল, ঈশিতা হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠল বাংলা! ‘ফ্রি ফায়ার’ দেখেই প্রেমিকাকে খুন

কৃষ্ণনগরের কলেজ ছাত্রী ঈশিতা মল্লিক হত্যাকাণ্ডে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস খুনের পেছনে রয়েছে অনলাইন গেমের নেশা। অভিযুক্ত দেশরাজ সিং পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে যে জনপ্রিয় মোবাইল গেম ‘ফ্রি ফায়ার’ থেকেই সে খুনের পরিকল্পনা করেছিল।

মোবাইল গেম থেকে খুনের ছক
উত্তর প্রদেশের নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হওয়া দেশরাজকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, সে ‘ফ্রি ফায়ার’ নামক একটি অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল। এই গেমের নিয়ম অনুযায়ী, মাথায় গুলি করে প্রতিপক্ষকে মারলে পয়েন্ট বেশি পাওয়া যায়। দেশরাজ ঠিক একইভাবে ঈশিতার মাথায় গুলি করে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। জেরায় সে স্বীকার করে যে, হাতে পিস্তল আসার পরই সে এই নৃশংস খুনের ছক কষে।

রক্ত দেখেও ভয়হীন
পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন গেমের ভার্চুয়াল রক্ত দেখে দেশরাজ এতটাই অভ্যস্ত ছিল যে, প্রেমিকা ঈশিতাকে গুলি করার পর তার শরীর থেকে রক্ত বের হতে দেখেও সে বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি। বরং সে স্থিরভাবে দাঁড়িয়েছিল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছিল। তবে ঈশিতাকে খুন করে সে কেন ওই বাড়িতে থেকে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ এও জানার চেষ্টা করছে যে সে ঈশিতার মা ও ভাইকেও খুন করতে চেয়েছিল কিনা।

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মগ্ন দেশরাজ
তদন্তে উঠে এসেছে, দেশরাজ বাস্তব জীবন থেকে দূরে ভার্চুয়াল দুনিয়াতেই বেশি সময় কাটাত। এর ফলে তার ব্যবহার অত্যন্ত রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল এবং পড়াশোনাও প্রায় ছেড়ে দিয়েছিল। বন্ধুবান্ধব এবং এমনকি ঈশিতা নিজেও তার থেকে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেছিল। ঈশিতার এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পেরে রাগের বশেই সে তাকে খুন করে।

পুলিশের বার্তা
কৃষ্ণনগর জেলার পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় থেকে কিশোর-কিশোরীরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভার্চুয়াল জগতে আসক্ত হয়েছে। ‘ফ্রি ফায়ার’-এর মতো গেম খেলতে খেলতে তাদের মনে হিংসা ও রাগ গভীরভাবে গেঁথে যাচ্ছে। এর ফলে তারা এ ধরনের নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশ আগামী দিনে স্কুলগুলোতে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে সচেতনতা মূলক আলোচনা করার পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, পুলিশ দেশরাজের বাবা, বিএসএফ কর্মী রঘুবিন্দর প্রতাপ সিং-কেও গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা পাঠিয়েছে। একজন নিরাপত্তাকর্মী হয়েও কেন তিনি ছেলেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেন, তা জানতে চায় পুলিশ। পাশাপাশি, বুধবার ঈশিতার বাবা-মাকে জেলে নিয়ে গিয়ে দেশরাজকে সনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা হবে।