স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেয়েও শুটিং থামাননি সুচিত্রা সেন! মহানায়িকার জীবনে ঘটে যাওয়া অজানা গল্প কাঁদাবে আপনাকেও

তিনি ছিলেন ‘মহানায়িকা’। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই এক অন্যরকম মাদকতা। তবে লোকে ভাবত, শুটিং ফ্লোরে তিনি নাকি প্রচণ্ড রাশভারী এবং অহংকারী। কারও সঙ্গে মিশতেন না, চুপচাপ নিজের মতো কাজ করতেন। তবে এই সব গসিপ একেবারেই সত্যি নয়। তাঁর সহ-অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রায়শই বলেছেন যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পেশাদার। এই পেশাদারিত্বের প্রমাণ মেলে তার জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনায়—স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েও তিনি শুটিং থামাননি।
পুরীতে ঘুরতে গিয়ে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দিবানাথ সেনের মায়ের দেখা হয়। এরপর অল্প বয়সেই দিবানাথ সেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দিবানাথের হাত ধরেই সুচিত্রার অভিনয় জীবনে আসা। স্বামীর পরামর্শ এবং সহযোগিতায় তিনি ধীরে ধীরে একজন তারকা থেকে মহানায়িকায় পরিণত হন।
তবে গুজব রয়েছে, সুচিত্রার এই সাফল্যই পরবর্তীতে তাদের দাম্পত্য জীবনের কাঁটা হয়ে ওঠে। উত্তম কুমারের সঙ্গে তার রসায়ন নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে যে রটনা ছিল, তা নাকি দিবানাথ পছন্দ করতেন না। এর ফলে তাদের মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। শোনা যায়, একসময় সুচিত্রাকে মদ্যপ স্বামীর কটূ কথা সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও তার ব্যক্তিগত জীবনের এই ঝড়কে তার অভিনয় জীবনে বা দুই মেয়ের ওপর পড়তে দেননি। একসময় তিনি মেয়েদের নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়েছিলেন, কিন্তু কখনও বাইরের কারও কাছে তার কষ্ট প্রকাশ করেননি। মেকআপের আড়ালে তিনি তার জীবনের সব যন্ত্রণা লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন ‘স্বপ্নসুন্দরী’।
১৯৬৯ সালে পরিচালক সুশীল মুখোপাধ্যায়ের ‘মেঘ কালো’ ছবির শুটিং করছিলেন সুচিত্রা সেন। সেই সময়ই খবর আসে যে তার স্বামী দিবানাথ সেন মারা গেছেন। শোনা যায়, স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। কেবল বলেছিলেন, “আমার জীবনের একটা চাবি হারিয়ে গেল।” যদিও তারা দীর্ঘদিন আলাদা ছিলেন, তবুও এই দুঃসংবাদে তিনি মারাত্মকভাবে শোকগ্রস্ত হন। কিন্তু নিজের পেশাদারিত্বের খাতিরে সেই কষ্ট বুকে নিয়েই তিনি ‘মেঘ কালো’ ছবির শুটিং শেষ করেন। এটাই প্রমাণ করে, তিনি শুধু মহানায়িকা ছিলেন না, একজন অসাধারণ পেশাদারও ছিলেন।