৪০ দিন পর অবশেষে সরকারি বাসভবন ছাড়লেন ধনকড়, তাঁর নতুন ঠিকানা কোথায়?

উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ৪০ দিন পর অবশেষে সরকারি বাসভবন ছাড়লেন জগদীপ ধনকড়। গতকাল তিনি দিল্লির ছাত্তারপুরের একটি ফার্ম হাউসে গিয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। এই ফার্ম হাউসটি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোক দল (আইএনএলডি)-এর প্রধান অভয় সিং চৌটালার। সূত্র বলছে, আগামী কয়েক মাস এখানেই থাকবেন তিনি।

সাধারণত, দুই বছরের বেশি সময় উপরাষ্ট্রপতি পদে থাকলে পদত্যাগের পরও তিনি অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির মতো সরকারি বাংলো পাওয়ার যোগ্য হন। জগদীপ ধনকড়ের ক্ষেত্রেও একটি টাইপ এইট বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, তিনি পদত্যাগ করার পর দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি বাংলোর জন্য আবেদন করেননি। যখন তিনি আবেদন করেন, তখন তাঁর জন্য নির্ধারিত বাংলোটি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ব্যবহার করছেন।

ওই মন্ত্রী বাড়িটি ছেড়ে দিলেও, সেটি সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে আরও ২ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে। এই সময়ের জন্যেই ধনকড়কে বেসরকারি ফার্ম হাউসে থাকতে হচ্ছে। এর আগে উপরাষ্ট্রপতি পদমর্যাদার কোনো ব্যক্তিকে এভাবে বেসরকারি বাড়িতে থাকতে হয়নি। যদিও সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, এটি কেবল পদ্ধতিগত কারণে হয়েছে, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই।

গত ২১ জুলাই হঠাৎ করে জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। তিনি তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালেও, বিরোধীরা অভিযোগ করে যে মোদী সরকারের চাপে তিনি ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে তিনি একরকম ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। বিরোধীরা জানতে চেয়েছিল, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি কোথায় এবং তিনি সুরক্ষিত আছেন কিনা। তাঁর নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে।

এই বিতর্কের মাঝেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি সাক্ষাৎকারে জানান, ধনকড় সাংবিধানিক পদে থাকাকালীন ভালো কাজ করেছেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণেই ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে অযথা জলঘোলা করার কোনো প্রয়োজন নেই। যদিও শাহের এই মন্তব্যের পরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামেনি।

বর্তমানে, নতুন বাসভবনে স্থানান্তর এবং প্রাপ্য পেনশন পেতে আবেদন করার পর, ধনকড়ের ভবিষ্যৎ গতিবিধি নিয়ে রাজনৈতিক মহল কৌতূহলী।