SSC-র নতুন পরীক্ষা ঘিরে ফের আশঙ্কার মেঘ! অযোগ্যের সংখ্যা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবার সুপ্রিম কোর্টেও

অবশেষে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জট যেন কাটতেই চাইছে না। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও, এই পরীক্ষা ঘিরেই ফের দেখা দিয়েছে আশঙ্কা। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ শিক্ষকের সংখ্যা নিয়ে উঠছে নতুন প্রশ্ন।
আদালতের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই তালিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। মামলাকারী আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, অযোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা ১৮০৬ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এমনকি, তাঁদের ধারণা এই সংখ্যা ৬০০০-এরও বেশি হতে পারে।
হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই-এর দেওয়া তালিকায় আরও বেশি অযোগ্য প্রার্থীর নাম ছিল। কিন্তু কমিশন শুধুমাত্র যারা চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তাদের নামই তালিকায় রেখেছে। এখানেই আইনজীবীদের আপত্তি। তাঁদের মতে, অনেক অযোগ্য প্রার্থী এখনও পর্যন্ত এই তালিকায় যুক্ত হননি, কারণ কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যাটি কমিয়ে দেখাচ্ছে।
যদি অযোগ্য প্রার্থীদের আসল সংখ্যাটা সত্যিই অনেক বেশি হয় এবং তাদের নাম তালিকায় না থাকে, তাহলে নতুন করে যে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তাতেও তারা অংশ নিতে পারবে। এর ফলে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও ফের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে, যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাওয়ার আগেই আরও একবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
এপ্রিল মাসে হাইকোর্ট প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিলেও এসএসসি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। পরে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। এরপরেও এসএসসি অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করেনি। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে তালিকা প্রকাশিত হলেও, সেখানে প্রথমবার ১৮০৪ জনের নাম ছিল, যা পরে বেড়ে ১৮০৬ জন হয়। এই বারবার তালিকা বদল, এবং আরও অনেকের নাম বাদ পড়ায় কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামিমের মতো ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, রাজ্য সরকার এবং কমিশন উভয়েই আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত কবে সম্পূর্ণ হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।