“রাশিয়া নয়, আমেরিকার সঙ্গেই থাকা উচিত ভারতের” কোন যুক্তিতে ট্রাম্পের এই বার্তা?

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র কূটনৈতিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাক্তন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নভারো। মোদীর রাশিয়া এবং চিনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নভারো এই পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘কোনো যুক্তিতে দাঁড়ায় না’ বলে অভিহিত করেছেন।

নভারোর সমালোচনার মূল কারণ
নভারো পরিষ্কারভাবে বলেছেন, “দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে মোদীর উচিত হবে আমেরিকার পাশে থাকা, রাশিয়ার নয়।” তিনি মোদীর রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে ‘অর্থহীন’ এবং ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তার মতে, বিশ্ব যখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের মতো একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশের এমন নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত নয়। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের বহু-মেরুভিত্তিক বিদেশনীতিকে প্রকারান্তরে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

নভারোর মন্তব্যের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলও স্পষ্ট। ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করে, যা মূলত রাশিয়ান তেল আমদানি নিয়ে বাণিজ্যজনিত মতবিরোধের জেরে হয়েছিল। নভারো মনে করেন, ভারত যদি রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমায়, তবে তাদের জন্য ভালো সুযোগ আসতে পারে।

ভারতের অবস্থান কী?
যদিও পশ্চিমা দেশগুলির পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী SCO সম্মেলনে ভারতের শান্তিপূর্ণ সংলাপ এবং বহু-মেরুভিত্তিক শান্তি উদ্যোগের প্রতি তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতের শান্তি প্রচেষ্টাকে ‘উচ্চ প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। এতে বোঝা যায়, ভারত তার নিজস্ব ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।