কৃষ্ণনগর পুরসভা নিয়ে তৃণমূলে অস্বস্তি চরমে! দলের হুইপ অমান্য, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা তৃণমূল কাউন্সিলরদের

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কৃষ্ণনগর পুরসভা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের হুইপ অমান্য করে পুরপ্রধান রীতা দাসের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন দলেরই কাউন্সিলররা। রীতাকে সরিয়ে কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপ্রধানকে। দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।

দীর্ঘদিন ধরেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় অচলাবস্থা চলছিল। উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন কাউন্সিলররা। পুরপ্রধান রীতা দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি কাউন্সিলরদের অন্ধকারে রেখে বেশ কিছু বিল পাশ করিয়েছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছিলেন না। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, গত ২৮ জুলাই তাঁরা রীতা দাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন।

নদিয়ার মতো একটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় নির্বাচনের আগে দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। জানা গিয়েছে, দলের হুইপ অমান্য করে অনাস্থা আনা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত কাউন্সিলরদের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত বক্সীর মতো শীর্ষ নেতারা বৈঠক করছেন। সূত্রের খবর, এই বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হবে। কারণ, দলের হুইপ অমান্য করে পুরপ্রধানকে অপসারণের মতো ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল।

এই মুহূর্তে উপপ্রধান কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলায় এবং দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনা কি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভাবমূর্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে?