‘পবন খেরা রাখেন দু’টি ভোটার কার্ড!’ উত্তাপ রাজ্য রাজনীতি, কী বলছেন অমিত মালব্য

ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এর মাঝেই বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। মালব্যের দাবি, পবন খেরার দুটি ভোটার কার্ড বা EPIC (Electoral Photo Identity Card) রয়েছে, যা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
কেন এই অভিযোগ?
এই অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এলো, যখন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন এবং ‘ভোট অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় বহু ভুল রয়েছে। বিশেষ করে, বিহারে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) চলাকালীন কংগ্রেস ৮৯ লাখেরও বেশি ভুলের অভিযোগ জমা দিয়েছে, যার মধ্যে মৃত ব্যক্তির নাম এবং মহিলাদের নাম বাদ পড়ার মতো ঘটনাও রয়েছে।
কংগ্রেসের এই অভিযোগের পাল্টা জবাব হিসেবেই বিজেপি পবন খেরার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার সংক্রান্ত যে কোনো বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে।
কী হতে পারে এর প্রভাব?
আইনি জটিলতা: যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি নির্বাচনী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হবে। কারণ, একজন ব্যক্তির দুটি ভিন্ন EPIC নম্বর থাকা গণতন্ত্রের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা: এই অভিযোগ কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের বিতর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটার ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
সতর্ক থাকার বার্তা: এই ঘটনা সাধারণ ভোটারদের তাদের নিজেদের ভোটার ডেটা যাচাই করার জন্য উৎসাহিত করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি বা আইনি জটিলতার সৃষ্টি না হয়।
তবে, এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে, এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। এটি শুধুই একটি রাজনৈতিক কৌশল কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।