আতঙ্কে স্বাস্থ্য দফতর, মাথায় ‘অ্যামিবা’র হানায় কেরালায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা,

কেরালায় এক বিরল ও মারাত্মক রোগের কারণে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই রোগের নাম ‘অ্যামেবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস’। এটি এক ধরনের মস্তিষ্ক সংক্রমণ, যা সাধারণত ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ বা মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা নামে পরিচিত। সোমবার এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, গত মাসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। এর ফলে রাজ্যে এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন।
মৃত শিশুটির বাড়ি ওমাসেরিতে। গত এক মাস ধরে শিশুটি কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রবিবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। এছাড়া, গত ৮ জুলাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মালাপ্পুরম জেলার ৫২ বছর বয়সী রামলা। প্রথমে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়েছিল।
স্বাস্থ্য দফতরের খবর অনুযায়ী, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম এবং ওয়েনাড় জেলায় এই মুহূর্তে আরও আটজন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। গত ১৪ আগস্ট থানমারাসেরিতে নয় বছর বয়সী এক বালিকাও একই রোগে মারা গিয়েছিল।
কীভাবে ছড়ায় এই রোগ?
এই রোগ প্রধানত দূষিত জলে সাঁতার কাটা বা স্নান করার মাধ্যমে ছড়ায়। চলতি বছর কেরালায় মোট ৪২টি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য দফতর এই রোগের বিস্তার রোধে কোঝিকোড়, ওয়েনাড় এবং মালাপ্পুরম জেলায় কুয়ো এবং জলের ট্যাঙ্কে ক্লোরিনেশন শুরু করেছে। এছাড়াও, নতুন করে সংক্রমণ আটকাতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ কী?
‘নাইগ্লেরিয়া ফোলেরি’ হলো এক ধরনের এককোষী জীব, যাকে সাধারণত ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ বলা হয়। এটি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে শুরু করে। এরপর এই জীবাণু সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং মস্তিষ্কের টিস্যু নষ্ট করে দেয়।
লক্ষণ এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা
এই রোগের লক্ষণ সাধারণত ১ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রথমে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বা বমিভাব হয়। ধীরে ধীরে গলায় ব্যথা, খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন এমনকি কোমাতে চলে যেতে পারেন রোগী। গরমকালে যখন জলের স্তর কমে যায় এবং জল উষ্ণ থাকে, তখন নদী বা হ্রদে সাঁতার কাটলে এই সংক্রমণ হতে পারে।
ভালো খবর হলো, এই রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় না। এমনকি দূষিত জল পান করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না। কেবল নাক দিয়ে জল ঢুকলেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
বর্তমানে এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে চিকিৎসকরা রিফ্যাম্পিন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকসহ কিছু অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বে খুব কম রোগীই এই রোগ থেকে বেঁচে ফিরেছেন।