‘স্কুল পাঠ্যক্রমে ট্রান্সজেন্ডারদের যৌন শিক্ষা পড়ানো হবে?’, সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর

সারা দেশের স্কুল পাঠ্যক্রমে রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডারদের সম্পর্কে যৌন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। দিল্লির বসন্ত ভ্যালি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী কাব্য মুখোপাধ্যায় সাহা এই আবেদনটি করেছেন। তার দাবি, NCERT এবং SCERT-এর পাঠ্যক্রমে রূপান্তরকামীদের বিষয়ে সঠিক শিক্ষার অভাব রয়েছে, যা তাদের প্রতি সমাজে বৈষম্য বাড়ায়।
কীসের জন্য এই আবেদন?
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশিকা ছিল যাতে রূপান্তরকামীদের অধিকার সুরক্ষার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকার এখনও সেই নির্দেশনাগুলি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। ২০১৯ সালের রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইনেও শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে বেশিরভাগ রাজ্যেই অনুসরণ করা হচ্ছে না।
আবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলোর পাঠ্যবইগুলোতে রূপান্তরকামীদের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। এই বাদ দেওয়াটা সংবিধানের বেশ কিছু ধারা লঙ্ঘন করে। এটি রূপান্তরকামীদের আরও বেশি কোণঠাসা করে এবং তাদের প্রতি সমাজের ভুল ধারণা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
আবেদনকারী ছাত্রীর বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার, NCERT এবং ছয়টি রাজ্যকে এই আবেদনের জবাব দিতে নোটিশ জারি করেছে। এই মামলার উদ্দেশ্য হল, স্কুল পাঠ্যক্রমে বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত এবং রূপান্তরকামী-বান্ধব যৌন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা তৈরি করা। এর ফলে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ বৈষম্য কমে আসবে এবং রূপান্তরকামীদের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।