দারিদ্রকে জয় করে ডাক্তারি প্রবেশিকায় তাক লাগল পুরুলিয়ার ঈশিতা! জানুন সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক

পুরুলিয়া জেলার সাঁতুড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রাম কোটালডি। সেই গ্রামেরই মেয়ে ঈশিতা মণ্ডল, যার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। এই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিয়ে সে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় সারা ভারতে ১৪,০১৮ র‍্যাঙ্ক করে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পেয়েছে। তার এই সাফল্য গ্রামের অনেক ছেলেমেয়েকেই অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সমাজের ভুল ভাঙিয়ে স্বপ্নপূরণ
গ্রামের মেয়ে হওয়ায় অনেকেই ভাবতেন ঈশিতা হয়তো জীবনে বড় কিছু করতে পারবে না। কিন্তু সমাজের এই ভুল ধারণা সে ভেঙে দিয়েছে। ঈশিতা মনে করে, “নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে সমাজের সংকীর্ণতা নয়, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমই হয় সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।” তার এই কথা যেন প্রতিটি গ্রাম্য শিক্ষার্থীর জন্য এক নতুন বার্তা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ঈশিতা শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য কিছু করতে চায়। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বড় হয়ে সে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (গাইনোকোলজিস্ট) হবে। কারণ ছোট থেকেই গ্রামের গরিব নারীদের চিকিৎসার সমস্যা তাকে ভাবিয়ে তুলত। ভবিষ্যতে সে প্রান্তিক নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়।

ঈশিতার এই সাফল্যের পেছনে তার বাবা আদিত্য প্রসাদ মণ্ডল এবং মা ঝুমা গোপ মণ্ডলের অবদান অপরিসীম। তাদের সমর্থন ও যত্ন ছাড়া এই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না।