ঘুষ আর সুদ-সহ ফেরাতে হবে বেতন! কত টাকা গচ্ছা যাচ্ছে ‘দাগি’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের? জানাল আইনজীবী

২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায়ের পর এবার বিপদে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। চাকরি তো গেছেই, তার উপর আদালতের নির্দেশে বেতনও ফেরত দিতে হবে। এর ফলে একজন ‘দাগি’ শিক্ষকের কত টাকা লোকসান হচ্ছে, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব।

গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো এসএসসি প্যানেল বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। এর পাশাপাশি, আদালত নির্দেশ দেয় যে, যেসব অযোগ্য শিক্ষক এতদিন ধরে বেতন নিয়েছেন, তাদের সেই টাকা ১২ শতাংশ সুদসহ ফেরত দিতে হবে।

আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দাবি অনুযায়ী, এই অযোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার জন্য ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অনেকে বলছেন, এই টাকা জোগাড় করতে তাদের সবকিছু বিক্রি করতে হয়েছে। এখন একদিকে যেমন চাকরি নেই, তেমনই আবার আদালতের নির্দেশে নেওয়া বেতনও ফেরত দিতে হচ্ছে।

যদি ধরে নেওয়া হয় যে, একজন শিক্ষক ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাহলে তার মোট কত টাকা লোকসান হবে?

নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক: নবম-দশম শ্রেণির একজন শিক্ষক শুরুতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেতন পান। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাদের মোট বেতন হয় প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে ঘুষের ১০ লক্ষ টাকা যোগ করলে মোট লোকসান দাঁড়ায় ৩৪ লক্ষ টাকা।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকরা শুরুতে প্রায় ৪৪ হাজার টাকা বেতন পান। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের মোট বেতন হয় প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা। ঘুষের ১০ লক্ষ টাকা যোগ করলে মোট লোকসান হয় ৩৬ লক্ষ টাকা।

এই হিসেবের সঙ্গে আবার বেতনের উপর ১২ শতাংশ সুদও যোগ হবে। ফলে একজন ‘দাগি’ শিক্ষকের লোকসানের অঙ্ক আরও অনেক বেড়ে যাবে।

শনিবার এসএসসি মোট ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেছেন, এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়। তার মতে, আরও অনেক অযোগ্য প্রার্থীর নাম সামনে আসবে। তিনি আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই তালিকায় শাসক ও বিরোধী উভয় দলের নেতা-নেত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের নাম থাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে।