নিজের মনকে পরীক্ষা করার জন্য বয়ফ্রেন্ডকে বেস্ট ফ্রেন্ডের শয্যাসঙ্গী বানাল প্রেমিকা! তুমুল বিতর্ক নেটদুনিয়ায়

একবিংশ শতকের আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। সম্প্রতি তেমনই এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মেগ নামে এক তরুণী। তিনি তার প্রেমিক ওয়েনকে তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু বনি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মেগ জানিয়েছেন, এটি ছিল তাদের সম্পর্কের ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’। এই ঘটনাটি ইউটিউবে Love Don’t Judge নামের একটি চ্যানেলে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মেগ এবং ওয়েন এক বছর ধরে সম্পর্কে আছেন। তারা দুজনেই অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন। তাই প্রথম থেকেই তাদের সম্পর্ক ছিল ‘ওপেন’ বা মুক্ত। মেগ বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা মানুষদের জন্য একমুখী বা মনোগামি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।” এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রথমে তিনি “উদ্বিগ্ন কিন্তু উত্তেজিতও” ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়েন ও বনি উপরে যাওয়ার পর মেগ একা বসে থাকেন এবং বলেন, “আমাদের মধ্যে সবসময়ই ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাই এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক লেগেছে।”
সম্পর্কের শুরুতে ঈর্ষা ছিল, কিন্তু তারা যোগাযোগের মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠেছেন। মেগ ও ওয়েন জানান, তাদের সম্পর্কের প্রধান শর্ত হলো খোলাখুলি আলোচনা। মেগ স্বীকার করেছেন, তার মনে চাপা ভয় কাজ করছিল। তিনি বলেন, “যদি ওয়েন বলে যে বনি’র সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা আমার চেয়ে বেশি ভালো ছিল, তবে সেটা আমাকে কষ্ট দেবে।”
এই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর ইন্টারনেটজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই এই সম্পর্ককে “অস্বাভাবিক” ও “অস্থায়ী” বলে কটাক্ষ করছেন। অনেকে মেগের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন, “যদি সে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পায়, তবে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।”
তবে মেগ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “সব মানুষের সম্পর্কের ধরন আলাদা। আমরা সবাইকে খুশি করার জন্য কিছু করি না। আমরা যেমন আছি, তাতে আমরা খুশি।”
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের সম্পর্ক সমাজে প্রচলিত একগামীতার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। যদিও এই ধরনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত, তবুও এতে মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা এবং আত্মসম্মানের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।