স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণ পরিশোধকে ঘিরে বিপাকে গোষ্ঠীর মহিলারা, অ্যাকাউন্টে ঢোকা বন্ধ লক্ষ্মীর ভান্ডার! নেপথ্যে যে কারণ

কাটোয়া-২ ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এক বড় সমস্যায় পড়েছেন। ব্যাঙ্কে ঋণ পরিশোধ করা সত্ত্বেও তাঁদের অ্যাকাউন্ট ‘লক’ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, গ্যাসের ভর্তুকি বা সরকারি অন্য কোনো প্রকল্পের টাকাও তাঁরা তুলতে পারছেন না। এই ঘটনা নিয়ে মহিলারা এখন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগে এই মহিলারা দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারির সময় থেকে তাঁরা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এজেন্টের কাছে নিয়মিত ঋণের কিস্তি জমা দিতেন। ওই এজেন্ট বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা সংগ্রহ করে তাঁদের হাতে ব্যাঙ্কের রশিদও তুলে দিতেন।
কিন্তু সম্প্রতি ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয়েছে, ওই টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়েনি। শুধু তাই নয়, যে রশিদগুলি তাঁদের দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও জাল বলে দাবি করছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এই খবরে মহিলারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক মহিলা বলেন, “আমরা সময়ে কিস্তি দিয়েছি, তার প্রমাণ হিসেবে আমাদের কাছে রশিদও আছে। কিন্তু ব্যাঙ্ক বলছে টাকা জমা হয়নি। এখন আমরা সরকারি কোনো টাকাও তুলতে পারছি না। ব্যাঙ্কে গেলে শুধু হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”
কাটোয়া-২ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পিন্টু মণ্ডল এই অভিযোগকে সমর্থন করে বলেছেন, “ব্যাঙ্কের এজেন্ট ভয় দেখিয়ে টাকা তুলেছে, কিন্তু জমা করেনি। প্রায় দু-তিন বছর ধরে মহিলাদের অ্যাকাউন্ট লক করে রাখা হয়েছে। আমরা মহকুমা শাসক এবং বিডিও-কে বিষয়টি জানিয়েছি।”
অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মহিলাদের কিস্তির যথেষ্ট টাকা জমা হয়নি এবং এখনো অনেক ঋণ বাকি আছে। তাই তাঁদের লোক আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।