মাছ-মাংসের থেকেও পছন্দের এই কাড়ান ছাতু, কিনতে ভীড় বাড়ছে ক্রেতাদের

মাংসের স্বাদকেও হার মানায় ‘কাড়ান ছাতু’। নামটা হয়তো অনেকের কাছেই নতুন, কিন্তু মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে এর কদর অনেক। এই দুর্লভ ছাতু এখন মেদিনীপুর শহরের কলেজ রোড জুড়ে এক মেলায় বিক্রি হচ্ছে। শালবনি, গড়বেতা, গোয়ালতোড়-এর মতো এলাকা থেকে স্থানীয়রা এই ছাতু তুলে এনে বিক্রি করছেন।
দাম শুনেই ‘ছ্যাঁকা’ খাচ্ছেন ক্রেতারা
এই ছাতুর দাম শুনে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। শনিবার প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। তবে রবিবার রাধাষ্টমীর দিনে এর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমে আসে। সকালে ৭০০-৮০০ টাকা হলেও দুপুরের দিকে ৫০০-৬০০ টাকায় পাওয়া গেছে। শহরবাসী নির্মল কুমার দাস জানান, তিনি রবিবার ৫০০ টাকা কেজি দরে এক কেজি কিনেছেন, যেখানে দু’দিন আগে তিনি একই ছাতু ৮০০ টাকায় কিনেছিলেন।
মেদিনীপুর শহরের শিক্ষক গৌতমকুমার ভকত বলেন, এই ছাতু তার খুব প্রিয় এবং দাম যতই হোক না কেন, তিনি নিয়মিত কেনেন। সুদীপকুমার খাঁড়া, মৃত্যুঞ্জয় সামন্ত, রাকেশ দাস ও অর্পিতা সাহার মতো অনেকেই মনে করেন, জঙ্গলে জন্মালেও শহরের মানুষের কাছেও এর জনপ্রিয়তা কম নয়।
নানা নামে পরিচিত এই ছাতু
স্থানভেদে এই ‘কাড়ান ছাতু’র অনেক নাম রয়েছে। দুর্গাপূজার আগে পাওয়া যায় বলে একে ‘দুর্গা ছাতু’ বলা হয়, আবার জন্মাষ্টমী ও রাধাষ্টমীর সময়ে প্রচুর পাওয়া যায় বলে এর আরেক নাম ‘অষ্টমী ছাতু’। ভাজা, পোস্ত দিয়ে বা মাংসের মতো করে কষিয়ে রান্না করা— বিভিন্নভাবে এই ছাতু খাওয়া হয়।
তবে, মেদিনীপুর শহরে দাম বেশি হলেও জঙ্গলমহলের শালবনি, চাঁদড়া, গুড়গুড়িপালের মতো এলাকায় এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। সেখানে ৪০০-৫০০ টাকাতেই প্রতি কেজি পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মাশরুমের থেকে এর স্বাদ অনেক ভালো, তাই দাম বেশি হলেও খাদ্যরসিকরা তা কিনতে পিছপা হন না।
বন্যপ্রাণী গবেষক রাকেশ সিংহদেব জানান, ‘কাড়ান ছাতু’ (Termitomyces Heimii) সাধারণত বর্ষার শেষ দিকে শাল জঙ্গল এবং এর আশেপাশের এলাকার উইঢিবি ও ল্যাটেরাইট মাটির ওপর জন্মায়। এই ভাদ্র-আশ্বিন মাসেই এটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামেও এর দেখা মেলে।