পুজোয় ‘বাঙালি অস্মিতা’ নিয়ে এবার তৃণমূল-বিজেপি লড়াই

সামনেই লোকসভা নির্বাচন, আর তার আগে বাঙালি আবেগ নিজেদের দিকে টানতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন এক প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এই লড়াই এবার আরও জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ‘বাঙালি অস্মিতা’ স্লোগান নিয়ে বরাবরই এগিয়ে। তবে এবার বিজেপিও সেই পথে হাঁটছে। বাংলা-বিরোধী তকমা ঝেড়ে ফেলতে বিজেপি এবার দুর্গাপূজাকে হাতিয়ার করছে।
বিজেপির ‘বাঙালি মিলন সমারোহ’
বিজেপি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ‘বাঙালি মিলন সমারোহ’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যেখানে বাঙালিরা দুর্গাপূজা করে, সেখানে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতা করা। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চাইছে যে, বিজেপি শুধু বাংলার নয়, সারা দেশের বাঙালিদের পাশে আছে।
দলের দুই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দুষ্মন্ত কুমার গৌতম এবং তরুণ চুঘ এই কর্মসূচির দায়িত্বে আছেন। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজ্যে কমিটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারাও যুক্ত আছেন। এই কমিটির কাজ হলো, বিজেপি শাসিত এবং অ-শাসিত রাজ্যগুলোতেও বাঙালিরা যাতে কোনো সমস্যা ছাড়া পূজা করতে পারে, সেদিকে নজর রাখা এবং সব ধরনের সাহায্য করা।
বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দিল্লির সরকার বাঙালিদের পূজার এই জাঁকজমকে মুগ্ধ। তারাও এর অংশ হতে চায়। দেশের যেখানে যেখানে বাঙালিরা পূজা করছে, আমরা সেখানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি।”
‘বাঙালি অস্মিতা’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ‘বাঙালি অস্মিতা’র ওপর জোর দিয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারও তৃণমূল সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তাই বিজেপি চাইছে এই সুবিধা যেন শুধু তৃণমূল একা না পায়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘বাঙালি অস্মিতা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। শাসক এবং বিরোধী, উভয় দলই নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার বক্তৃতায় কলকাতার বিভিন্ন মন্দিরের কথা উল্লেখ করেন, যা থেকে বোঝা যায় বিজেপি এই বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সামনে লোকসভা নির্বাচন, তার আগে দুর্গাপূজার সময় এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।