মাঠ থেকে উধাও লাখ লাখ মৌমাছি! যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিরাট ক্ষতির কারণ কী? জানুন

২০২৫ সালের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ায় আমন্ডের পরাগায়নের জন্য বাণিজ্যিক মৌচাক নামানো হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ না যেতেই মৌপালকরা লক্ষ্য করলেন, মৌমাছির সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের (USDA) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত গ্রীষ্ম থেকে প্রায় ১৭ লাখ মৌমাছির কলোনি ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের পেছনে মূল কারণ হল এক ধরনের পরজীবী মাইট এবং ভাইরাসের মারাত্মক সংমিশ্রণ।

USDA-র গবেষণায় জানা গেছে, এই ক্ষতির প্রধান কারণ হল ভেরোয়া ডেস্ট্রাকটর নামে একটি বহিঃপরজীবী মাইট। এই মাইট মৌমাছির শরীর থেকে রক্ত শুষে খায় এবং একই সঙ্গে মারাত্মক ভাইরাস ছড়ায়। গবেষকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত কীটনাশক অ্যামিট্রাজ-এর বিরুদ্ধে এই মাইট প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছে। ফলে মাইটগুলোকে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এই মাইটের কারণে দুটি ভাইরাস বিশেষভাবে ছড়িয়ে পড়েছে:

ডিফর্মড উইং ভাইরাস (DWV)

একিউট বি প্যারালাইসিস ভাইরাস

এই দুটি ভাইরাস মৌমাছিদের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে এবং নতুন মৌমাছি জন্ম নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। ফলে মৌচাকের শ্রমিক মৌমাছিরা দ্রুত মারা যাচ্ছে, কিন্তু নতুন মৌমাছিরা তাদের জায়গা নিতে পারছে না। এর ফলে ধীরে ধীরে পুরো কলোনি ভেঙে পড়ছে।

শুধু মাইট বা ভাইরাস নয়, অন্যান্য বিষয়ও মৌমাছিদের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। কীটনাশকের প্রভাব, খাদ্যের অভাব, তীব্র তাপমাত্রা এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহনের চাপ—এই সবকিছুই মৌমাছিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সব চাপ একসঙ্গে কাজ করার ফলেই মৌমাছিদের জীবনকাল কমে গেছে।

গবেষকরা এখন মাইটের বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ভাইরাসের এই সংমিশ্রণ নিয়ে কাজ করছেন। তারা এমন নতুন কৌশল খুঁজছেন যা কার্যকরভাবে মাইটকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর পাশাপাশি মৌপালকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শীতের আগেই যেন তারা মাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন। কারণ এটি একটি বড় বিপর্যয়, যা শুধু বাণিজ্যিক পরাগায়নকেই নয়, বন্য পরাগায়নের ভারসাম্যকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।