ভোটার কার্ডে কীভাবে ঠিকানা বদলাবেন? জেনে নিন সহজ ও বিস্তারিত তথ্য

সরকারিভাবে দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পাশাপাশি এবার সবার নজর ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দিকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা রাজ্যে ভোটার তালিকার সঠিকতা যাচাই করা হবে। বিহারে এই কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, যেখানে ৬৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই কাজ শুরু হলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এই পরিস্থিতিতে, আপনার ভোটার কার্ডে কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
যদি আপনার ঠিকানা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তাহলে অনলাইন ও অফলাইন— দুটি পদ্ধতিতেই তা করতে পারেন। অনলাইন পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সহজ, যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে। অফলাইনে আবেদন করতে চাইলে আপনাকে নিকটবর্তী বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) অফিসে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
অনলাইনে ভোটার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি
১. আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে voters.eci.gov.in ওয়েবসাইটটি খুলুন।
২. আপনার ফোন নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে একটি ওটিপি তৈরি করুন এবং সেটি দিয়ে লগ ইন করুন।
৩. লগ ইন করার পর, ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ফর্ম-৮ (Form-8) বেছে নিন।
৪. এরপর একটি নতুন উইন্ডো খুলবে। আপনি নিজের জন্য ঠিকানা বদলাতে চান নাকি পরিবারের অন্য কারও জন্য, তা নির্বাচন করুন।
৫. আপনার বর্তমান ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর (EPIC No.) দিন।
৬. আপনার পুরোনো ঠিকানা দেখা যাবে। সেখানে ‘ঠিকানা পরিবর্তন’ বা Shifting of Residence অপশনটি ক্লিক করুন।
৭. এরপর একটি নতুন ফর্ম আসবে। এই ফর্মটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। সামান্য ভুল হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
৮. প্রথমে আপনার রাজ্য ও জেলার নাম এবং এরপর আপনার বিধানসভা কেন্দ্রের নম্বর ও নাম পূরণ করুন।
৯. এরপর আপনার নাম, ভোটার নম্বর, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি দিন। মনে রাখবেন, নিজের জন্য হলে ‘Self’ অপশনটি বেছে নিতে হবে।
১০. এরপর নতুন ঠিকানার স্থান আসবে। আধার কার্ড বা অন্য কোনো সরকারি নথিতে থাকা সঠিক ঠিকানাটি এখানে লিখুন।
১১. আপনার নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, পাসপোর্ট, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিলের মতো যেকোনো একটি নথির স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
১২. সবশেষে, তারিখ ও এলাকার নাম লিখে ক্যাপচা কোড দিয়ে ফর্মটি জমা দিন।
ফর্ম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি রেফারেন্স নম্বর আসবে। এই নম্বরটি সংরক্ষণ করে রাখুন। প্রায় ৪৫ দিন পর নির্বাচন কমিশন থেকে একটি এসএমএস আসবে, যেখানে আপনাকে কোথায় গিয়ে মূল নথি দেখাতে হবে তা জানানো হবে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, এক মাসের মধ্যে নতুন ঠিকানাসহ আপনার ভোটার কার্ড বাড়িতে পৌঁছে যাবে।