বাজারে ফের পাওয়া গেল নকল ও নিম্নমানের ওষুধ, তালিকায় যেগুলি? মিলিয়েনিন নাম

দেশজুড়ে গুণমান যাচাইয়ের পরীক্ষায় আবারও খারাপ ফল করেছে বিপুল সংখ্যক ওষুধ। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ বা CDSCO-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে মোট ১৫১টি ট্যাবলেট, ক্যাপসুল এবং ইনজেকশন গুণমান পরীক্ষায় ফেল করেছে। এর মধ্যে ১৪১টি ওষুধ ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ (NSQ) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কলকাতায় ধরা পড়ল জাল ওষুধ
এই ১৫১টি ওষুধের মধ্যে ৮টি ওষুধকে জাল বা নকল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই জাল ওষুধগুলির মধ্যে বেশ কিছু কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবে ধরা পড়েছে। সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবে ২৬টি এবং রাজ্যের নিজস্ব ড্রাগ ল্যাবে ৫টি ওষুধের নমুনা মানহীন প্রমাণিত হয়েছে। গত মাসে বাজার থেকে randomly বা এলোমেলোভাবে এই ওষুধগুলো তুলে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সেই রিপোর্টেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
যে ৮টি ওষুধ জাল বলে চিহ্নিত হয়েছে:
CDSCO যে আটটি ওষুধকে জাল বলে ঘোষণা করেছে, সেগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ভেনটোক্ল্যাক্স ১০০ মিলিগ্রাম: এটি বোন ম্যারো ক্যান্সারের ওষুধ। চণ্ডীগড়ের ল্যাবে পরীক্ষা করে এটি জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
২. ন্যানড্রোলন ডেকানোয়েট ইনজেকশন: অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার এই ইনজেকশনটি কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবে পরীক্ষা করে জাল বলে জানা গেছে।
৩. হেপারিন সোডিয়াম এবং বেঞ্জাইল নিকোটিনেট মলম: এটি রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কলকাতার ল্যাবে পরীক্ষা করে এটিও নকল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
৪. অ্যামোক্সিসিলিন এবং ক্ল্যাভুলানেট ট্যাবলেট: এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ওষুধ। কলকাতার ল্যাবে দুটি আলাদা ব্যাচের এই ট্যাবলেট পরীক্ষা করে জাল পাওয়া গেছে।
৫. প্যান্টোপ্রাজল গ্যাস্ট্রোরেজিস্ট্যান্ট ট্যাবলেট: এটি গ্যাসের ট্যাবলেট। কলকাতার ল্যাবে এই ওষুধটিও জাল বলে ধরা পড়েছে।
৬. টেলমিসার্টান ৪০ মিলিগ্রাম এবং হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইড ১২.৫ মিলিগ্রাম: ব্লাড প্রেসারের এই ওষুধটিও কলকাতার ল্যাবে পরীক্ষা করে জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ওই আটটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা জানিয়েছে, এই ওষুধগুলো তারা তৈরি করেনি। অর্থাৎ, অসাধু চক্র বাজারে এই নকল ওষুধগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এই ধরনের নকল ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক হতে পারে।