বাড়ি বসে বিনা ঝঞ্ঝাটে তুলে নিন PF-র সব টাকা! জানুন সহজ পদ্ধতি

চাকরি ছাড়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) টাকা তোলা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। অনলাইনে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই বাড়িতে বসে পুরো টাকা তুলে নেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, চাকরি চলাকালীনও কিছু বিশেষ প্রয়োজনে টাকা তোলা সম্ভব।

পিএফ-এর টাকা তোলার নিয়ম
প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তোলার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন:

আপনার UAN (Universal Account Number) অ্যাকটিভ থাকতে হবে।

আপনার আধার, প্যান এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের KYC (Know Your Customer) তথ্য UAN-এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

আপনার চাকরির মেয়াদ শেষ হলে, সেটির Date of Exit বা DoE আপনার নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আপডেট থাকতে হবে।

সম্পূর্ণ টাকা তোলার জন্য চাকরি ছাড়ার পর কমপক্ষে দুই মাস বেকার থাকতে হবে।

যদি সব শর্ত পূরণ হয়, তাহলে EPFO-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা UMANG অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই টাকা তোলা যায়। আপনাকে শুধু UAN দিয়ে লগইন করতে হবে এবং সঠিক ফর্ম (Form-19, 10C, 10D) পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

কখন এবং কতটা টাকা তোলা যায়?
পুরো টাকা তোলা: চাকরি ছাড়ার পর দুই মাস কর্মহীন থাকলে পুরো PF ব্যালেন্স এবং পেনশন ফান্ড (যদি থাকে) তুলে নেওয়া যায়।

আংশিক টাকা তোলা: চাকরি করছেন, এমন অবস্থায় কিছু বিশেষ কারণে যেমন চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, বিয়ে, বাড়ি কেনা বা মেরামতের জন্য কিছুটা টাকা তোলা যায়। বেকারত্বের ক্ষেত্রে এক মাস পর ৭৫% এবং দুই মাস পর বাকি ২৫% তুলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।

ট্যাক্স (TDS) সম্পর্কে জরুরি তথ্য
যদি আপনার চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের কম হয় এবং আপনি ৫০,০০০ টাকার বেশি টাকা তোলেন, তাহলে টিডিএস (TDS) কাটা হতে পারে। প্যান কার্ড থাকলে ১০% টিডিএস কাটা হয়, আর যদি প্যান কার্ড না থাকে, তাহলে টিডিএস-এর হার অনেক বেশি হয়। তবে আপনার মোট আয় যদি করযোগ্য সীমার নিচে থাকে, তাহলে Form 15G বা 15H জমা দিয়ে টিডিএস এড়ানো সম্ভব।

পিএফের টাকা তোলার আগে অবশ্যই আপনার KYC এবং চাকরির শেষের তারিখ (DoE) ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিন। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আপনার নিকটবর্তী পিএফ অফিসে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।