“মাত্র ১৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে হিন্দু”-সম্ভল হিংসা নিয়ে যোগীর কাছে দেওয়া হলো রিপোর্ট

উত্তর প্রদেশের সম্ভলে সাম্প্রদায়িক হিংসার কারণ জানতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই কমিটি তাদের রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে জমা দিয়েছে। এই রিপোর্টে সম্ভল শহরের বর্তমান অবস্থা, স্বাধীনতার পর থেকে সেখানে কী কী পরিবর্তন হয়েছে এবং সাম্প্রতিক হিংসার কারণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবেন্দ্র আরোরার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কমিটি ৪৫০ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সম্ভল শহরে স্বাধীনতার সময় হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশে। এর পেছনে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’কে দায়ী করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৪৭ সাল থেকে সম্ভলে মোট ১৫টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৯০ এবং ১৯৯২ সালের হিংসা। ২০১৯ সালেও একটি বড় ঘটনা ঘটেছিল।
শাহি জামা মসজিদ বিতর্ক
গত বছর সম্ভলের শাহি জামা মসজিদকে ঘিরে একটি বড় অশান্তি হয়। স্থানীয় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে মসজিদটি আগে মন্দির ছিল কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। কিন্তু যখন সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশ সেখানে যান, তখন এলাকার লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলায় ২০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন এবং সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক হিংসার কারণ
২০২৪ সালের নভেম্বরে ঘটা সংঘর্ষের বিষয়েও রিপোর্টে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়া উর রহমান বারকের একটি মন্তব্যের পর হিন্দু পাঠানরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তুর্কি এবং পাঠানদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে চারজনের মৃত্যু হয়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, সম্ভলে একসময় ৬৮টি পবিত্র তীর্থস্থান এবং ১৯টি পবিত্র কূপ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকার সেগুলোর সংস্কার করার পরিকল্পনা করছে। এই রিপোর্ট থেকে সম্ভলের সংবেদনশীল পরিস্থিতি এবং সেখানে জনবিন্যাসে কী পরিবর্তন এসেছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়।